আইন ও সালিশ কেন্দ্র
আইন ও সালিশ কেন্দ্র

আসকের বিবৃতি: সেনাসদস্যরা গভীর রাতে বাসা থেকে একজনকে আটক করে হয়রানির ঘটনায় তদন্ত দাবি

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সেনাসদস্যরা গভীর রাতে ইমতিয়াজ হোসেন (রকি) নামের এক ব্যক্তিকে বাসা থেকে আটক করে নিয়ে হয়রানি করেছেন জানিয়ে এ ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

সোমবার এক বিবৃতিতে আসক বলেছে, ইমতিয়াজ হোসেন রকি, যিনি ২০১৪ সালে পল্লবী থানার পুলিশ হেফাজতে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই এবং জনি হত্যা মামলার বাদী। তিনি ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৩টা ১০ মিনিটে সেনাসদস্যরা তাঁর বাসায় প্রবেশ করে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাঁকে আটক করেন, ঘরে তল্লাশি চালান এবং পরে তাঁকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান।

আসক বলেছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পে ইমতিয়াজকে একটি অবৈধ অস্ত্রের পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয় এবং তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ বা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাঁর পরিণতি খারাপ হবে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ইমতিয়াজকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যা তাঁকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বা পড়ে শোনানো হয়নি। একজন নাগরিক, যাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং যিনি নিজেই একটি হেফাজতে মৃত্যুর মামলার ভুক্তভোগী, তাঁকে এভাবে হয়রানি করা, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা এবং মানসিক চাপ প্রয়োগ করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনি হত্যা মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজির স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবং বর্তমানে যা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

আসক মনে করে, উল্লিখিত ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২ ও ৩৫–এ নিশ্চিত মৌলিক অধিকার, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩, দণ্ডবিধি এবং জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আসক এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সোমবার বিকেলে দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. ফাহিমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য নেওয়ার জন্য ক্যাম্পে যেতে বলেন।