
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন যেকোনো দেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে বাংলাদেশের পাশে আছে চীন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনের দূতাবাসে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে চীনা দূতাবাস এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের পর প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ চীন প্রত্যাখ্যান করবে।
এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বললে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের বৈদেশিক নীতি হলো চীন যেকোনো দেশে অন্য যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। চীন নিজেও একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। অনেক বিদেশি অপশক্তি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়।’
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এমনকি এখনো আমরা কিছু মহলের দ্বারা একই ধরনের অপচেষ্টার সম্মুখীন হচ্ছি। আপনাদের এটি বুঝতে হবে। তাই বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারি। কাজেই বাংলাদেশের কাছে এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। ৫০ বছর ধরে এটাই আমাদের নীতি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বেইজিং থেকে বাংলাদেশ জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেননি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, যৌথ ইশতেহারে উভয় দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা, সফর ও প্রশিক্ষণ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও মতৈক্য হয়েছে।
‘সুতরাং আমি যেভাবে বলেছি, আমাদের সহযোগিতা খুবই সমন্বিত। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তারই অংশ। কোনো নির্দিষ্ট কেনাকাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার মতো অবস্থানে আমি নেই। সুতরাং, আমি কোনো মন্তব্য করার মতো অবস্থানে নেই।’
চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার ধারাবাহিকতায় প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সামনের দিনে আরও বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।