প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্ভাবনার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান ও নিউইয়র্ক সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতির বার্তা গেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, চার দিনের এই সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে ১১ দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এ কথা বলেন। তিনি জানান, সফরে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফিরে আসায় দুই দিন সময় লেগেছে। মাঝের চার দিনে প্রধানমন্ত্রী যে ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন, তার মধ্যে ৮টি সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মূলধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ভাষণ ছিল। এর বাইরে অনানুষ্ঠানিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈঠক হয়।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এর মধ্যে ছিল পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি। এসব বৈঠকে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে ৩৫ জন সফরসঙ্গী থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির কেন্দ্রে ছিল সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্ব ও সাধারণ পরিষদে ভাষণ। ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। তাতে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং অর্থনীতি ও রাজনীতি পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ নীতির কথা তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন জানান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়। আর ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয় উঠে আসে। বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

জলবায়ু, স্বাস্থ্য, মিডওয়াইফারি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন বলে জানান তাঁর উপদেষ্টা। এসব বৈঠক ও আয়োজনে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে পাঁচটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ ছাড়া জলবায়ু মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

মাহদী আমিন জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত প্রাতরাশ সংবর্ধনায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের সহধর্মিণীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমান অংশ নেন। দুই অনুষ্ঠানেই জাতিসংঘের মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।