২১ জুলাই হাম নিয়ে রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চার বছরের মাহিয়াকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ও ফুপু। ২৩ জুলাই
২১ জুলাই হাম নিয়ে রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চার বছরের মাহিয়াকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ও ফুপু। ২৩ জুলাই

হামের উপসর্গে আরও দুই মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩০ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭১০ জনের ও হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই শিশু।

হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ বৃহস্পতিবারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশু সুনামগঞ্জের ও আরেকটি গাইবান্ধার।

২১ জুলাই হামে আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর কাফরুল থেকে মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন এই বাবা

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর তথ্য দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬, বরিশাল বিভাগে ৬২, খুলনা বিভাগে ৩১ ও রংপুর বিভাগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর তারা আট বিভাগে ১০৩ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় এনেছে। অর্থাৎ টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫ ডোজ।

দুই দিন আগে যে মেয়েকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন, সেই মেয়ের মরদেহ নিয়ে আজ ফিরতে হচ্ছে বাবাকে।সিএনজিচালিত অটোরিকশার সামনে সন্তান হারানো বাবার আহাজারি। ২৩ জুলাই

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে অনেক কাজ করেছে। কিন্তু ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তবে এ কাজ সরকারের পক্ষে করা সম্ভব; বিশেষ করে দ্বিতীয় ডোজের টিকার ক্ষেত্রে এ কাজ করতে হবে।

শহর ও গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরা টিকা পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ না করলে হাম কমানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের জ্বর হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হবে। সেখানে তাদের ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু না হলে তাদের হাম সন্দেহ করে হাসপাতালে রেখে দিতে হবে। চার দিন পর যদি দেখা যায় হাম নেই, তাহলে বাসায় চলে যাবে। তা ছাড়া হাসপাতালে দুর্বল শিশুরা যত্ন, খাবার, চিকিৎসা পাবে। এটা করা গেলে হামে মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৪১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে কিংবা এই রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জনের। এ নিয়ে গত ১৩০ দিনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২০৭ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হলো। আর এ সময় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ১৮৮ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।