ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা ও চলাচলের পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জমে থাকা পানি ও ময়লা পরিষ্কার করে এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি সফল হওয়া যাবে।
বুধবার রাতে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এই বার্তায় তিনি ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর একটি টিকা আবিষ্কার হয়েছে বৈকি, তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে টিকা খুব বেশি কার্যকরী নয়। সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে ডেঙ্গুর যে জন্মস্থল, অর্থাৎ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, ময়লা—এটাকে যদি আমরা পরিষ্কার করে ফেলতে পারি, তাহলে সবচেয়ে বেশি আমরা সফল হব ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রিকার পাতা খুললেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মৃত্যু ও অসুস্থ হওয়ার খবর দেখা যায়। আপনজন হারানোর কষ্ট কেবল যিনি হারিয়েছেন, তিনিই বোঝেন। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অনেক মানুষকে এই বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিস মশার জন্ম হয় জমে থাকা পানিতে। ঘরের আনাচকানাচে কিংবা রাস্তার ধারে—যেখানেই পানি ও ময়লা জমে থাকে, সেখানেই মশার বংশবিস্তার ঘটে।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান, আপনাদের কাছে আমি যে সহযোগিতা চাই আসুন না, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি পরিবার, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিই, আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং আমাদের চলার পথে যেখানে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, বংশবিস্তার করতে পারে, এই জায়গাগুলোকে আমরা পরিষ্কার করে ফেলি। যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।’
দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর বাইরে বিএনসিসি, স্কাউট, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট ও রেডক্রসের সদস্য রয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ। তাঁরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যতটা সম্ভব আবর্জনা ও ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
দেশের মানুষ অতীতেও সম্মিলিতভাবে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ একসঙ্গে দেশ স্বাধীন করেছে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানও সম্মিলিতভাবে সফল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি এতগুলো কাজ পারি, তাহলে কেন আমরা দেশের অন্য যে সকল সমস্যা আছে, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে কন্ট্রিবিউট করি, একটু একটু করে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি, কেন পারব না?’
ভিডিও বার্তার শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সকলে একসাথে কাজ করে দেশের জন্য।’ সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের সমস্যার সমাধান মানে, আপনার আমার আমাদের সকলের সমস্যার সমাধান। আসুন, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি। সকলে মিলে চেষ্টা করলে আগামী দিনে এই ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে আমরা বহু মানুষকে রক্ষা করতে পারব।’