
নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এসআর ড্রিম আইটি’। প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম ‘ফিমেল ফ্রিল্যান্সিং এমপাওয়ারমেন্ট ক্যাম্পেইন-থ্রি: ফেজ টু’। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ২০ হাজার নারীকে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অনলাইন ব্যবসায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ক্যাম্পেইনে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ হাজার নারীকে স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেয়।
ক্যাম্পেইনটির অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেহনাজ করিম অর্নি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল শিক্ষা এবং অনলাইন ক্যারিয়ার গঠনে কাজ করেন। তাঁর মতে, একজন নারী যখন নিজের দক্ষতা অর্জন করেন, তখন শুধু তাঁর নিজের জীবনই নয়; বরং পুরো পরিবার ও সমাজ ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হয়।
মেহনাজ করিম অর্নি বলেন, ‘বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে শেখার জন্য বড় কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন নেই। একজন নারীর হাতে যদি একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তাহলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া সম্ভব। সব ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে “জুম”-এর লাইভ প্ল্যাটফর্মে। ফলে ঘরে বসেই সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি তাঁরা পাবেন ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কমিউনিটি গ্রুপে বিনা মূল্যে অনলাইন সাপোর্ট এবং যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধানের সুযোগ।’
এ ছাড়া ক্যাম্পেইনটিতে প্রশিক্ষক হিসেবে আরও থাকছেন ওয়াসিকা রহমান পারিসা। তিনি নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি ও অনলাইন আয়ের সুযোগ তৈরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ প্রদান করবেন।
এসআর ড্রিম আইটি সূত্রে জানা যায়, এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, বরং নারীদের বাস্তব কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুযোগ। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই হাজার জনের বিশেষ ইন্টার্নশিপ, ১০ লাখ টাকার স্কলারশিপ, শীর্ষ ১০ নারী শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ স্কলারশিপ, সেরা দুজনের জন্য ল্যাপটপ উপহার এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এসআর ড্রিম আইটিতে সরাসরি চাকরির সুযোগ। এ ছাড়া প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী আজীবন কমিউনিটি এক্সেস এবং নারী মেন্টরদের নিয়মিত গাইডলাইন পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শুভ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসআর ড্রিম আইটিতে প্রায় ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন ডিজিটাল স্কিলে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তাঁদের সম্মিলিত আয় ইতিমধ্যে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখা। বিশেষ করে নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।’
২০২২ সালে এসআর ড্রিম আইটি দুই হাজার নারীকে বিনা মূল্যে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালে প্রায় ২০ হাজার নারীকে স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেয়। সেই সফল উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার আবারও ২০ হাজার নারীকে দক্ষ করে তোলার এই বৃহৎ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সমন্বয়ে এসআর ড্রিম আইটির এই উদ্যোগ দেশের নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের নারীদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।