ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) লোগো
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) লোগো

শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ ১০ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আইপিডির ‘গণমানুষের ইশতেহার’

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নগর উন্নয়নসহ ১০ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। আজ শুক্রবার সকালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আইপিডির পক্ষ থেকে এই ইশতেহার তুলে ধরা হয়।

ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া বিষয়গুলো হলো সাম্য ও সামাজিক ন্যায়, সুষম ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও গণতন্ত্র এবং তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ।

ইশতেহারে আইপিডি যেসব প্রস্তাব করেছে তার মধ্যে রয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করা, নারী–শিশু–প্রতিবন্ধী–আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ এবং রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ।

এ ছাড়া প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ, হাওর–চর–পাহাড় ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও রয়েছে পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, সব মেগা ও বড় প্রকল্পে বাধ্যতামূলক পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, নদী–বন–জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (সৌর ও বায়ু) বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ দেওয়া এবং খাদ্য মজুত ও বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিনা মূল্যে ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষায় অঞ্চল ও আয়ের বৈষম্য দূরীকরণ, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে আইডিপির ইশতেহারে। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, খোলা জায়গা, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

আইডিপির পক্ষ থেকে ইশতেহার পাঠ করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এই ইশতেহারের মূল ভিত্তি তিনটি—কল্যাণ, সাম্য ও নায্যতা। ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবে কার্যকর হবে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ভার্চ্যুয়াল এই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আইপিডির অন্যতম উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় দেশের বৃহত্তর দিকনির্দেশনা, বৃহত্তর পরিবর্তন, সুষম উন্নয়নের আলোচনাগুলো কিন্তু খুব বেশি মোটাদাগে আসছে না। এখন পর্যন্ত আসছে না। অথচ নির্বাচন একেবারে কাছে চলে এসেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আরও বলেন, সব ধরনের আইন প্রণয়ন, পরিকল্পনা তৈরি এবং কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগামী সরকারকে দুটি জিনিসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একটা হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা। আরেকটা হলো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা এবং ন্যায়ভিত্তি রচনা করা, অর্থাৎ বৈষম্যকে না বলা।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরহাদুর রেজা, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অর্থনীতিবিদ নাঈম উল হাসান প্রমুখ।