সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ৬ ও ৭ মার্চ। ১১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মো. আবদুন নূরের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানা গেছে।
সমিতির নির্বাচনে বরাবরই মূলত দুটি প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (সাদা হিসেবে পরিচিত) মনোনীত প্যানেল। অন্যটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল হিসেবে পরিচিত)।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ গতকাল মঙ্গলবার সমিতির এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ ১৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। সভাপতি পদে আইনজীবী আবু সাঈদ সাগরকে ও সম্পাদক পদে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হককে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এখনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব আইনজীবী কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, সমিতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্য হিসেবে কারা থাকছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে উপকমিটি গঠন করা হয়, তাহলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সমিতির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৪-২৫ বছরের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট ১৪টি পদে এক বছর মেয়াদের জন্য ওই নির্বাচন হয়ে থাকে। সমিতিতে সভাপতি পদ একটি, সহসভাপতি দুটি, সম্পাদক একটি, কোষাধ্যক্ষ একটি, সহসম্পাদক দুটি এবং সদস্য পদ সাতটি।
গত বছর (২০২৩-২৪) উপকমিটির আহ্বায়ক নিয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের আপত্তি এবং এর জেরে ভাঙচুর, পুলিশের পিটুনি, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দিয়ে ১৫ ও ১৬ মার্চ ভোট হয়। অবশ্য সেই নির্বাচন আনুষ্ঠানিক বর্জনের ঘোষণা না দিলেও নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি তোলেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। গত বছরের ১৭ মার্চ রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফলে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪টি পদের সব কটিতেই জয় পান আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের আইনজীবীরা।