মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার (অনলাইন প্রতারণার কেন্দ্র) থেকে পালিয়ে আসা তিন বাংলাদেশির আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। উড়োজাহাজের নির্ধারিত সূচি অনুসারে কাল বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তাঁদের ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। এই তিন বাংলাদেশি হলেন মো. সাইদুর রহমান, রবিউল ও মো. সোহেল রানা।
অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয় ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। গত ২৪ আগস্ট প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে আবেদন করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারভাইভার ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংককের প্রথম সচিবকে (শ্রম) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে থাইল্যান্ডের মায়ে সট ইমিগ্রেশনের রেফারেল মেকানিজমের আওতাধীন সেফ হোমে অবস্থানরত আট বাংলাদেশিকে মুক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। তাঁদের মধ্যে থাকা তিনজন আগামীকাল দেশে ফিরছেন। বাকিরা দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
সারভাইভার ফাউন্ডেশন বলছে, গত বছর বিভিন্ন সময় কাজ নিয়ে কম্বোডিয়া ও লাওসে যান ৮ বাংলাদেশি কর্মী। তাঁদের কিছুদিন সেখানে কাজ করানোর পর সড়কপথে থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। একপর্যায়ে তাঁরা পালিয়ে থাইল্যান্ডে চলে আসেন। তাঁদের ভিসা না থাকায় অভিবাসন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়শিবিরে (সেফ হোম) রাখা হয়।