জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ব্যানারে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ব্যানারে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়

সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জকসুর মানববন্ধন

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ব্যানারে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার তাদের দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসানোর পাঁয়তারা করছে। এর ফলে নিয়োগে দলীয় রাজনীতির দাসত্ব কায়েম হবে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, লিখিত পরীক্ষা আগের মতো বহাল রেখেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার যাবতীয় অসংগতি দূর করে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কেবল ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কোনো সমাধান নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষারই নম্বরের মানবণ্টনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ১১ থেকে ২০শ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার নম্বরবণ্টনে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এর মধ্যে ১১ থেকে ১২শ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০, ১৩ থেকে ১৬শ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০শ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক দুই পরীক্ষায়ই ২৫ করে নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান কম থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।