মনোয়ারা বেগম
মনোয়ারা বেগম

চেক ডিজঅনার মামলায় ‘প্রক্সি’ দেওয়া সেই নারী ২ দিনের রিমান্ডে

২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির দিতে এসে গ্রেপ্তার মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিদ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামরুল ইসলাম বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নাসরিন সিকদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। ১৬ জুন আসামি নাসরিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

বৃহস্পতিবার নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানির সময় মনোয়ারার পরিচয় ও মামলার বিষয়ে আদালতের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন। পরে তাঁকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে নাসরিন সিকদার, মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শুক্রবার শুনানির সময় মনোয়ারার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি এর আগে এমন কাজ করেছেন কি না। জবাবে মনোয়ারা বলেন, ‘না, আমি আগে এ ধরনের কাজ করিনি। আমি আইনজীবীর চেম্বারে কাজ করি। উকিল আমাকে নিয়ে গেছেন, এর বেশি কিছু জানি না।’ বিচারক তাঁকে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাসরিন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারাকে আসামি সাজিয়ে আদালতে হাজির করেন। আইনজীবী হাম্মাদ ওকালতনামায় ভুয়া ব্যক্তির নাম লিখে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।