রাশেদা কে চৌধূরী
রাশেদা কে চৌধূরী

অভিমত

ভালো একটি নির্বাচন হবে, সেটাই আশা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আমাদের সন্তানদের আত্মাহুতির পর বড় একটি প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট থেকে অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছিল। সংস্কারের কাজ চলছে, বিচারের কাজ এগোচ্ছে আর নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক।

নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকার ছাড়া একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অবস্থানের উন্নতি হওয়া খুবই দুরূহ। আমরা কখনোই বাংলাদেশকে মিয়ানমারের মতো কোনো সামরিক শাসনের আওতায় দেখতে চাই না। সেদিক থেকে সরকার আমাদের একটি নির্বাচন উপহার দিচ্ছে, এর জন্য ধন্যবাদ জানাই। অনেক ভুলত্রুটি, অনেক অপূর্ণতা এবং প্রত্যাশার ঘাটতি থাকলেও ভালো একটি নির্বাচন হবে, সেটাই আশা।

উন্নয়নশীল বিশ্বের যেকোনো দেশে নির্বাচনের আগে–পরে নানা ধরনের অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা, অশান্তি–সহিংসতা হয়, এখানেও হয়েছে; সেটা নিয়ে খুব বেশি হতাশা ব্যক্ত করার কিছু নেই। কিন্তু এগুলো আরও ভালো হতে পারত, সে প্রত্যাশাটা ছিল। দ্বিতীয়ত, নারীরা তাদের জায়গা থেকে বেশ বড় একটি হোঁচট খেয়েছে এই নির্বাচনে। সেখানে নারীর প্রতি সহিংসতার কথা যদি না–ও বলি, নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ এবং নারী ভোটারের নিরাপত্তা কতখানি নিশ্চিত হবে, সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

নারীর অংশগ্রহণ মানে প্রতিনিধি হিসেবে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে সব কটি রাজনৈতিক দল নারীদের ভীষণ রকম উপেক্ষা করেছে, এটা বলতেই হয়। সেই জায়গা থেকে এই নির্বাচন আমাদের সবকিছু হয়তো দেবে না। তারপরও আশা করব, একটা নির্বাচিত সরকার আসবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। আমরা বলতে পারি, তাদের একটি ভোটারশ্রেণি আছে। কিন্তু তারা এখন কী অবস্থায়, কী অবস্থানে এবং তাদের মতামত কী রকম হবে, জানি না। সেখানে ভোট উৎসব যদি নিরাপদে, নির্বিঘ্নে–সুষ্ঠুভাবে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ব্যাপারটা তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।

আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, আগে আমরা যে প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখেছি, যেকোনো নির্বাচনের আগে–পরে, এটি যেন না হয়। নির্বাচন–পরবর্তী সময় শক্ত হাতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এমনকি যেকোনো ধরনের সহিংতা প্রতিহত করতে নির্বাচন কমিশনও দায়ী থাকবে। বিজয়ী আর বিজিত—দুই দলের কাছেও এটি প্রত্যাশা। সরকারের চেয়ে এ ক্ষেত্রে দলগুলোর দায়িত্ব বেশি।

কাদা–ছোড়াছুড়ি তো চলছেই, হয়তো চলবেও। কিন্তু প্রতিহিংসার মধ্যে যেন রাজনৈতিক দলগুলো না যায়। এর বাইরে কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা, হেয় করা, নারীকে ছোট করা, অবমূল্যায়ন করা—এগুলো যেন কোনোভাবেই না হয়। সরকার এগুলো শক্ত হাতে দমন করবে বলে আশা করি এবং নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।