
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার এক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
সবশেষ গ্রেপ্তার দেখানো ওই মামলায় জামিন বহাল থাকায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে তাঁর আইনজীবী মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন।
পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার ওই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খোবাইব নামের একজনকে হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি করেন নিহত ব্যক্তির ভাই জোবায়ের আহম্মেদ।
ওই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন খায়রুল হক। শুনানি নিয়ে ৩০ জুন হাইকোর্ট রুল দিয়ে খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। আবেদনটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১০৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আট মামলার মধ্যে অন্য সাত মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ী থানার ওই মামলায় তাঁকে দেখানো হয়। মামলার এজাহারে খায়রুল হকের নাম ছিল না। এ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। চেম্বার আদালত নো অর্ডার দিয়েছেন। ফলে এ মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রইল। জামিন বহাল থাকায় তাঁর কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে।