শেখ হাসিনা, আজমিনা, টিউলিপ, রাদওয়ান
শেখ হাসিনা, আজমিনা, টিউলিপ, রাদওয়ান

রাজউকের প্লট দুর্নীতি

শেখ হাসিনা, টিউলিপ, আজমিনা, রাদওয়ানের মামলার রায় আজ

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববির বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার রায় আজ সোমবার।

দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৪ জন আসামি। তাঁদের ছাড়াও আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির তালিকায় আরও ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন রয়েছেন।

গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

মামলা দুটির অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেন।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা দুটির সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তাঁরা পলাতক (একজন গ্রেপ্তার) ছিলেন। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।’

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলায় মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন।

এ মামলায় আজমিনা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

রাদওয়ানের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মামলায় মোট ২৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয় গত ১৮ জানুয়ারি। এরপর রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত। মামলার ১৮ আসামির মধ্যে খুরশীদ আলম কারাগারে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ ও পরিচালক শেখ শহিনুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এর আগে ঢাকার পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক মামলায় শেখ রেহানাকে ৭ ও টিউলিপকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।