কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন মো. আবদুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত ১ জুলাই রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার মামলা তদন্তকালে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে থেকে তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের ‘কারারক্ষী সাইফুল’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। বলতেন তাঁদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’–এর মাধ্যমে হয়েছে। এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যের একটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হতো।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলতেন এবং জানাতেন, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তাঁর হাতে সময় কম। এরপর ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কাছাকাছি রয়েছে এমন কোনো দোকানের বিকাশ থেকে নিজস্ব নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে নিয়ে মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ করে দিতেন এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়তেন।
কারও সম্পর্কে না জেনে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। আরও বলা হয়, অনলাইনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়ে পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি প্রতারিত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।