বাংলাদেশে যেভাবে চাঁদ দেখে ঘোষণা করা হয় ঈদের তারিখ

বাংলাদেশে কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠক থেকেই ঈদ কবে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

যদি আজ চাঁদ দেখা যায়, তাহলে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হবে আগামী শনিবার।

সাধারণত দেখা যায়, সৌদি আরবে যেদিন ঈদ হয়, তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ হয়। সৌদি আরবে আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। সেই হিসাবে শনিবার বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ) মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়, এটি সঠিক নয়। আমাদের কমিটি আছে, তারা চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।’

মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, বর্তমানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ২০ সদস্যের। এ কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী ও সহসভাপতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। অন্যরা সবাই সদস্য। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্থানীয় অফিস পরিচালক সহসভাপতি মিলিয়ে ৯ থেকে ১০ সদস্যের একটি কমিটি থাকে। তারা চাঁদ দেখে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠায়, এরপর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র রমজান, পবিত্র ঈদুল ফিতর, পবিত্র ঈদুল আজহা, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-সহ বিভিন্ন ইসলামিক দিবস ও উৎসবের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করার জন্য চাঁদ দেখার প্রয়োজন হয়। সেসব দিবস ও উৎসবের পূর্ববর্তী চান্দ্রমাসের ২৯ তারিখে এই কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।

একই বিষয়ে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি আছে। একই দিনে জেলা কমিটি তাদের জেলায় চাঁদ দেখা গেল কি না, সে তথ্য জাতীয় কমিটির কাছে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাঠায়। পরে জাতীয় কমিটি জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমানে থিওডোলাইট মেশিনের মাধ্যমেও চাঁদ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ছাদে থিওডোলাইট মেশিন স্থাপন করেন। সব তথ্য পর্যালোচনা করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি একটি কার্যপত্র তৈরি করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। আর যখন এই ঘোষণা আসে, সঙ্গে সঙ্গে তা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এই কমিটি চাঁদ দেখার জন্য সম্মানী পেয়ে থাকে।

জানা গেছে, এবারের চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ওয়াক্‌ফ প্রশাসক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ), ঢাকার কুড়িলের শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের অধ্যক্ষ, যাত্রাবাড়ীর জামেয়া মাহমুদিয়ার প্রধান মুফতি, চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ ফারুক, পটুয়াখালীর দশমিনার আদমপুরা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ।