আম পাকে বৈশাখে—এ ধারণা বদলে দিয়েছে কাটিমন। বৈশাখ পেরিয়ে ভাদ্রও শেষের পথে, তবু বাজারে পাকা কাটিমনের সরবরাহ আছে; আশ্বিনেও থাকবে। বছর দুয়েকের মধ্যে সারা বছরই দেশের বাজারে পাকা কাটিমন পাওয়া যেতে পারে। বিলম্বিত জাতের আম হিসেবে এরই মধ্যে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।
রাজধানী থেকে দেশের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সুদর্শন ও মোটামুটি সুস্বাদু এই আম দ্রুত বাজার দখল করছে। অচিরেই কাটিমন দেশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।
জুলিয়াস সিজার পন্টাস রাজ্য জয় করে বলেছিলেন, ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। আক্ষরিকভাবে না হলেও দেশের আমের বাজারে কাটিমনের আগমনের প্রভাব অনেকটা তেমন। রূপে ক্রেতার মন, স্বাদে রসনা এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাজার—সবই জয় করেছে কাটিমন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কাটিমন উৎপাদিত হয়, যা মোট আম উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।
আমের বার্ষিক উৎপাদনে তারতম্য থাকে। বেশি ফলনের বছরকে বলা হয় ‘অন সিজন’; পরের ‘অফ সিজনে’ ফলন প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন কমে যায়। মোটাদাগে দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। শীর্ষে থাকা আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।
এই হিসাব শিগগিরই বদলে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক (হর্টিকালচার) কৃষিবিজ্ঞানী মো. মেহেদী মাসুদের ভাষ্য, কাটিমনের উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। বাংলাদেশে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষের প্রচলনকারী হিসেবে পরিচিত মেহেদী মাসুদ এখন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এর আগে এক দশকের বেশি সময় তিনি ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ছিলেন। তখন তাঁর উদ্যোগেই কাটিমনের চাষ শুরু হয়। গত রোববার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তাঁর সঙ্গে কাটিমনের বাণিজ্যিক উৎপাদন, গুণমান ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তাঁর কাছ থেকেই দেশে আম উৎপাদনের এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
কাটিমন থাইল্যান্ডের একটি বারোমাসি আম; এটি হাইব্রিড নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৪ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে জাতটি চাষ করে। সফলভাবে চারা উৎপাদন ও গাছে মুকুল আসার পর ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে চারা উৎপাদন এবং চাষিদের নিবিড় প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
বারোমাসি আম নিয়ে মেহেদী মাসুদের ভাবনা অবশ্য আরও আগের। ২০০২ সালে এফএও, কমনওয়েলথ ও গাম্বিয়া সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় একটি কৃষি গবেষণা প্রকল্পে তিন বছর কাজ করতে তিনি গাম্বিয়ায় যান। সেখানে তিনি দেখেন, বাংলাদেশে মোট ফলের ৬০ শতাংশ মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে এবং বাকি আট মাসে ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। তখনই সারা বছর ফলের উৎপাদন বাড়ানোর ভাবনা থেকে তিনি ‘বছরব্যাপী ফল চাষ’ নামে একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় বছরে প্রায় ১০ মাস আম হয়। এ দেশের জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম প্রথম হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে সফল ও বারোমাসি একটি জাত খুঁজছিলেন।
দেশে ফিরে মেহেদী মাসুদ দুটি বারোমাসি জাতের সন্ধান পান। ‘বরিশালী বারোমাসি’র রং সুন্দর হলেও আকার ছোট, ফলন কম এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ছিল না। কুমিল্লায় পাওয়া ‘নীলুদ্দিন’ কুমিল্লা ও নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেও সাফল্য মেলেনি। নোয়াখালীতে এক উদ্যোক্তার বাণিজ্যিক বাগানও সফল হয়নি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ‘বারি-১১’ জাতটির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, পরিচর্যা বেশি লাগে এবং আমের নিচের অংশ কিছুটা টক। তাই এটিও বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। শস্য বা ফসলের তুলনায় ফলদ গাছের গবেষণায় সময় বেশি লাগে। ফলে প্রায় ২০১০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও কোনো জাতই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।
আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।
ভিয়েতনামের সুপারশপে প্রথম কাটিমন দেখেন মেহেদী মাসুদ। আমটি দেখতে চমৎকার; সুপারশপে বিক্রি হওয়ায় নিম্নমানের হওয়ার শঙ্কাও ছিল না। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, এটি থাইল্যান্ডের বিশ্বমানের একটি বারোমাসি জাত—ঠিক যে ধরনের আম তিনি খুঁজছিলেন। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।
২০১৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে কাটিমনের দুই হাজার চারা আনা হয়। এর আগে কয়েকটি বাণিজ্যিক নার্সারি চারা আনলেও বাণিজ্যিকভাবে প্রচলন হয়নি। আমদানি করা চারা থেকে মাতৃগাছ তৈরি করে ২০১৬ সালে দেশের ৬৪ জেলার হর্টিকালচার সেন্টারে ১০টি করে রোপণ করা হয়। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার আমচাষি আবুল কাশেম পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন চাষ করে সফল হন। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ৫০ হাজার চাষিকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ থেকে এক একর জমিতে ‘বাণিজ্যিক ফলবাগান’ নামে প্রদর্শনী বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় সাত হাজার বাগান গড়ে ওঠে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।
কাটিমনের ফলন ও সম্ভাবনা দেখে চাষিদের আগ্রহ বাড়ে। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সাংবাদিক শাইখ সিরাজের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে মেহেদী মাসুদ কাটিমন চাষের পদ্ধতি তুলে ধরেন—কখন মুকুল ভাঙতে হবে, শাখায় কতটি পাতা রাখতে হবে এবং কী সার দিতে হবে। ছাদবাগান পরিচর্যার কয়েকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করে এর আগেই তিনি ‘গাছের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কাটিমন নিয়ে অনুষ্ঠানটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁরা উৎসাহ নিয়ে চাষে নামেন। ২০২৩ সাল থেকে কাটিমন বাজারে উঠতে শুরু করে। এখন সারা দেশে এর বিস্তারই চাষিদের আগ্রহের প্রমাণ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।
কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হয় দুইভাবে। ‘গ্রাফটিং’ পদ্ধতিতে কলমের চারা রোপণ করলে ভালো পরিচর্যায় ছয় মাসেই মুকুল আসে। তবে গাছের বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফলনের জন্য অন্তত দুই বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙে দিতে হয়। মুকুল রাখলে গাছের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি ‘টপ ওয়ার্কিং’; এতে বড় গাছের শাখা কেটে সেখানে কাটিমনের কলম জুড়ে দেওয়া হয়।
কাটিমনে বছরে অন্তত দুবার ফলন হয়। দুই বছর বয়সী গ্রাফটিং কলমের গাছে প্রতিবার প্রায় ২০ কেজি করে বছরে ৪০ কেজি আম ধরে। বয়সের সঙ্গে ফলন বাড়ে। প্রতি বিঘায় ১০০টি গাছ রোপণ করলে মোট ফলন হয় প্রায় চার হাজার কেজি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে দাম দাঁড়ায় প্রায় আট লাখ টাকা। সব খরচ বাদে পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা ধরলেও বিঘাপ্রতি আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কাটিমন ছাড়া এখন কোনো ফলে এত আয় হয় না। এটাই এর দ্রুত সাফল্যের মূল কারণ।
ক্ষেত্রবিশেষে কাটিমনের গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ভালো ফলন দেয়। বিশেষ পরিচর্যা না করলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্বাভাবিক মুকুল আসে। বারোমাসি ফলনের জন্য এই মুকুল ভেঙে দিতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে আসা মুকুলের ফলন হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে—এখন বাজারে থাকা আম এই ফলন। জুন-জুলাইয়ে আবার মুকুল এলে ফলন হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। অক্টোবরের শেষে আসা মুকুলের ফলন হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। তবে ভালো ফলন ও গাছের স্বাস্থ্যের জন্য চাষিরা পরিকল্পনা করে বছরে দুবার ফলন নেন। সঠিক পরিকল্পনায় সারা বছরই কাটিমন বাজারে পাওয়া সম্ভব।
কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।
পাকা কাটিমনের রং সোনালি হলুদ। তবে রং দেখে বিভ্রান্তি হতে পারে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়। সরাসরি সূর্যের আলো না পাওয়ায় কাঁচা অবস্থায়ও অন্য আমের মতো গাঢ় সবুজ হয় না; হলদে আভা থাকে। সুপক্ব আম পুরোপুরি সোনালি হলুদ। ভালো মানের তিনটি কাটিমনে এক কেজি হয়; গড় ওজন ৩৯৬ গ্রাম। বেশি লাভের আশায় ছোট অবস্থায় পেড়ে আনা আমের স্বাদ পানসে হয়। কাটিমনের শাঁস সোনালি হলুদ, আঁটি খুব পাতলা এবং স্বাদ মিষ্টি; তবে আম্রপালির চেয়ে কিছুটা কম। আম্রপালির মিষ্টতা ২৬ ব্রিকস, কাটিমনের ২০ ব্রিকস।
কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।
কাটিমনের বাজার এখন বেশ ভালো। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ফলের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার মোড়, ফুটপাত ও ভ্যানগাড়ি—সবখানেই অন্যান্য মৌসুমি ফলের সঙ্গে এটি বিক্রি হচ্ছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের ফল বিক্রেতা দেলোয়ার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি কাটিমন বিক্রি হয়। সবচেয়ে ভালো মানের তিনটি আমে এক কেজি হয়; বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয়টি ধরে—এমন ছোট আমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বড় দোকানের বাইরে ভ্যান বা ফুটপাতে ১৬০ টাকা কেজির আমগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের—আকারে ছোট ও কম মিষ্টি, তবে টক নয়। কাঁচা কাটিমনও খুব টক নয়।
অনলাইনেও কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ভালো মানের আম পৌঁছে দিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ী শাহিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রাজধানীর পাইকারি বাজার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে কাটিমন পাঠান। তাঁর নিজের বাগান রোহনপুরে। নিজের বাগানের পাশাপাশি অন্য বাগানির কাছ থেকেও আম সংগ্রহ করেন। এখন প্রতিদিন প্রায় এক ট্রাক কাটিমন বিক্রি করেন।
কাটিমনের দ্রুত বিস্তার দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী প্রজাতি হয়ে উঠবে কি না। মেহেদী মাসুদ বলেন, কাটিমন নিয়ে বলতে গেলে যুদ্ধ হয়েছে। কৃষিবিদদের দূরদর্শী চিন্তার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজাতির সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এখন বিশ্বায়নের যুগ, প্রযুক্তিরও বিস্তার ঘটছে। যেখানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে, মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেবে। আজ বা কাল কাটিমনের মতো জাত আসবেই। এর ইতিবাচক গুণগুলো নিয়ে নিজস্ব জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ করে নতুন ভালো জাত উদ্ভাবন করতে হবে।