সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

কুমিল্লা-৪ আসন

রিট খারিজের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসানের আবেদনের শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি

প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ সোমবার শুনানি নিয়ে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান। আবেদনটি ২২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ২৬ জানুয়ারি (আজ) নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় আবেদনটি ২১১ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন শুনানিতে ছিলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইসির আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পরে মঞ্জুরুল আহসানের আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনানি মুলতবি হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের (রিট খারিজ) প্রত্যায়িত অনুলিপি আমরা পাইনি। আদালত বলেন, সিপি (লিভ টু আপিল) শুনবেন। এ জন্য শুনানি মুলতবি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রেখেছেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেলে সিপি দায়ের করা হবে। হাইকোর্টের আদেশ (রিট খারিজ) দেখে আপিল বিভাগ আবেদন শুনবেন।’

ইসির আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনকারীপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের কপি পায়নি। হাইকোর্টের আদেশ দেখে শুনানির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন আদালত। এরপর বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

এর আগে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করেন।