জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। ১৩ জুলাই ২০২৬
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। ১৩ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘের রাজনৈতিক ফোরামে সহজ শর্তে অর্থায়নের আহ্বান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ত্বরান্বিত করতে উন্নয়ন অংশীজনদের প্রতি অনুদান, সহজ শর্তে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৩ জুলাই (স্থানীয় সময়) জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ জনগণের নবায়িত ম্যান্ডেট নিয়ে এই ফোরামে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে বর্তমান সরকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে নতুন সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। ফলে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের কৌশল গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতির সম্মুখীন। এই ঘাটতির বড় অংশই পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো খাতে। এ ছাড়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশ বর্তমানে ৩৭ শতাংশ অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি, যার তাৎক্ষণিক পরিমাণ প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিপুল আর্থিক চাপ সত্ত্বেও চরম দারিদ্র্য হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীন ভর্তি নিশ্চিত করা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিসহ এসডিজির অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি রূপান্তরমূলক যাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন জোনায়েদ সাকি।

নতুন সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানিনিরাপত্তা বৃদ্ধি, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রতিবেশব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হবে। এ ছাড়া ২৫ কোটি চারা রোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং সবুজ শিল্প ও পরিবহন খাতকে উৎসাহিত করা হবে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে নারীদের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা জোরদার করতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।