সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এনএলএ) নেতারা। আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এনএলএ) নেতারা। আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে

বিচারকদের শোকজ, ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রতিবাদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোষ্ট দেওয়ায় অধস্তন আদালতের কিছু বিচারককে শোকজের (কারণ দর্শানোর নোটিশ) সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিকেলে জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি যখন সংসদে কথা বলছেন, তখন ২৮ জন বিচারককে তাঁদের ‘চ্যাট গ্রুপে’ ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার কারণে শোকজ করা হয়েছে।

তবে কতজন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, তা জানতে আইন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা কথা বলতে চাননি। আরেকজন বলেছেন, তিনি জানেন না এবং অন্য কর্মকর্তা ফোন ধরেননি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় শোকজ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এনএলএ) আহ্বায়ক আইনজীবী আজমল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী উপায়ে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রণীত একটি সার্কুলারের আলোকে শোকজ করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা ২০১৭ অনুসারে বেআইনি ও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমরা এহেন শোকজকে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ভয় দেখানোর কৌশল মনে করছি।’

আজমল হোসেন আরও বলেন, অবিলম্বে বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দিয়ে বিচারকদের করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে বিচার বিভাগের ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। হাইকোর্টের রায় অনুসারে অনতিবিলম্বে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আইনজীবী খন্দকার এরশাদুল বারী, মুখ্য সংগঠক আইনজীবী সাকিল আহমাদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী সাহাবুল বাশার, কেন্দ্রীয় সদস্য আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ও আশরাফী সানজিদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।