২০১৫ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ক্রসফায়ারে নিহত হন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনার পর শেষবিদায়ে অংশ নিতে চেয়েছিলেন তাঁর দুলাভাই শাহ মো. বখতিয়ার। বাড়ি গেলে তাঁরও এমন অবস্থা হবে বলে তখন হুমকি দিয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ সোমবার জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন শাহ মো. বখতিয়ার।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। সেই মামলায় ২২তম সাক্ষী হিসেবে আজ জবানবন্দি দেন শাহ মো. বখতিয়ার। নিহত টিপু হাওলাদার তাঁর শ্যালক। বখতিয়ার নিজেও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দিতে শাহ মো. বখতিয়ার বলেন, ২০১৫ সালে তাঁদের এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তিনি ও তাঁর স্বজনেরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবুল হাসানাত তাঁর লোকজনকে দিয়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার চাপ দেন। কিন্তু তাঁরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করেন জানিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
শাহ মো. বখতিয়ার আরও বলেন, গোলাম মর্তুজা খান, আবদুর রইস সেরনিয়াবাতসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা তাঁদের বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় হওয়া ক্রসফায়ারের ঘটনা মনে করিয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন। হুমকির মুখে তাঁরা এলাকায় থাকতে না পেরে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন।
জবানবন্দিতে বখতিয়ার বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাঁর শ্যালক টিপু হাওলাদারকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
টিপুর লাশ বাড়িতে আনার পর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে যেতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শাহ মো. বখতিয়ার বলেন, সে সময় গোলাম মর্তুজা খান, আবদুর রইস সেরনিয়াবাত, শাহ আলম ধলা ও হুমায়ুন হাওলাদারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুই বাড়ি আসলে তোর অবস্থাও এমন হবে।’
শাহ মো. বখতিয়ার জবানবন্দিতে আরও জানান, সংবাদপত্রের খবর ও লোকমুখে তিনি শুনেছেন, উজিরপুর থানার দুই পুলিশ সদস্যকে এই ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
এই মামলার চার আসামির মধ্যে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার তৎকালীন এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন কারাগারে আছেন।