বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা, হামলার প্রতিবাদে বিকেলে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনার পর আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রতিটি ফটকে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পাসে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আজ সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ভিক্টোরিয়া পার্ক, শাঁখারি বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় শুনশান নীরবতা দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে

গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে গতকাল সকালে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবা বাড়ানোর দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কয়েকজন প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডি তাঁদের বাধা দেন। এরপর তাঁরা মিলনায়তনের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসে পড়েন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। জকসু নেতারা মিলনায়তনে প্রবেশমুখের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তখন ইনকিলাব মঞ্চের কিছু সদস্যও সেখানে ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচি ও সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদলের সঙ্গে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবারও মারামারি হয়।

সংঘর্ষের পর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মকবুল হোসেন গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বেলা একটার পর থেকে আহত ব্যক্তিরা আসা শুরু করেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম আরিফ, সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজ রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুক, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ প্রমুখ। ছাত্রদলের জাফর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, রবিউল আউয়াল, কল্যাণ কর, ইয়াছিন সাইফসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন বলেন, আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গতকালের হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে প্রেস বিফ্রিং করবেন বলেও জানিয়েছেন নেতারা।