ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ব্রিফিংয়ে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ব্রিফিংয়ে

নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তাঁর প্রত্যাশা, একটি অত্যন্ত ভালো, অংশগ্রহণমূলক ও সর্বোপরি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইভার্স ইজাবস এই আশার কথা শোনান।

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন, জানতে চাইলে ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। সাধারণ পরিবেশ খুবই আশাব্যঞ্জক। তাঁদের অধিকাংশ আলোচনাসঙ্গী জোর দিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হওয়া উচিত। এ কারণে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ও সাধারণ প্রত্যাশা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।’

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক। আর এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে বলে উল্লেখ করেন ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহি ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাঁদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইভার্স ইজাবস বলেন, মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে তাঁদের ধারণা।

নির্বাচনে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

প্রাক্‌–নির্বাচনী প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইভার্স ইজাবস বলেন, এসব বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। ১৪ ফেব্রুয়ারি মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা। কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে বিশ্বের সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ইভার্স ইজাবস বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচনপ্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। ইইউ একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।