‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়
‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়

দেশেই চিকিৎসা বিষয়ে অনলাইন আলোচনা

ক্যানসারের চিকিৎসায় সারা বিশ্বে একই গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়

ক্যানসারের চিকিৎসায় সারা বিশ্বে একই গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়। তাই বিদেশে গেলেই রোগী ভালো হবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাহিদ হাসান।

এসকেএফ অনকোলজির আয়োজনে ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় নাহিদ হাসান এ কথা বলেন। নাসিহা তাহসিনের উপস্থাপনায় এই অনলাইন আলোচনায় অতিথি ছিলেন তিনি। নাহিদ হাসান বাংলাদেশে ফুসফুস ক্যানসারের বর্তমান পরিস্থিতি, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা, সচেতনতা ও প্রতিরোধব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে পরামর্শ দেন। পর্বটি সরাসরি প্রচারিত হয় প্রথম আলো ডটকম এবং প্রথম আলো, এসকেএফ অনকোলজি ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপক নাসিহা তাহসিন লাং বা ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী ফুসফুসের ক্যানসার মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ এ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে ফুসফুসের ক্যানসারের হার কেমন? জানতে চাইলে ডা. নাহিদ হাসান বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মারা যান। বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার। আর নারীদের মধ্যে এটি ষষ্ঠ সর্বাধিক সাধারণ রোগ।’

ফুসফুস ক্যানসারে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কাদের? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. মো. নাহিদ হাসান বলেন, ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো ধূমপান। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ ফুসফুস ক্যানসারের পেছনে ধূমপান দায়ী। পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান, শিল্পকারখানার দূষণ, অ্যাসবেস্টস ও রেডনের মতো কেমিক্যাল এই রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে নারীদের মধ্যে ইদানীং ফুসফুস ক্যানসারের হার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে রান্নার ধোঁয়া ও পরোক্ষ ধূমপান এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া কিছু হরমোনাল ফ্যাক্টরও নারীদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’

যাঁরা সিগারেট স্মোক না করে ভেপ ব্যবহার করছে, তাঁদেরও কি সমানভাবে ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. মো. নাহিদ হাসান বলেন, ভেপেও সিগারেটের মতো ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে, যদিও মাত্রা কিছুটা কম। গবেষণা বলছে, ঝুঁকির ধরন প্রায় একই। তাই ভেপ ব্যবহারকেও নিরাপদ বিকল্প বলা যাবে না।

বাংলাদেশে ফুসফুস ক্যানসারের বর্তমান পরিস্থিতি, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসুবিধা বিষয়ে পরামর্শ দেন ডা. মো. নাহিদ হাসান

ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণগুলো প্রসঙ্গে ডা. নাহিদ হাসান বলেন, ফুসফুসের ক্যানসারে উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়। দীর্ঘদিন কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্বর ভেঙে যাওয়া, অকারণে ওজন কমা—এ সবই প্রধান লক্ষণ। দেরিতে শনাক্ত হলে ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন মাথাব্যথা, বমি কিংবা পেটব্যথার মতো জটিলতা দেখা দেয়।

ফুসফুস ক্যানসারের জন্য স্ক্রিনিংটা কাদের অবশ্যই করা দরকার? জানতে চাইলে ডা. নাহিদ হাসান বলেন, যাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি, বর্তমানে ধূমপায়ী অথবা গত ১৫ বছর ধূমপান করেছেন, কিংবা পরিবারের মধ্যে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাঁদের নিয়মিত ‘লো-ডোজ সিটি স্ক্যান’ করা উচিত।

বাংলাদেশে ফুসফুস ক্যানসারের ডায়াগনোসিসের ধরন সম্পর্কে ডা. নাহিদ হাসান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ফুসফুস ক্যানসারের সব ধরনের চিকিৎসাসুবিধা পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর। ‘স্টেজ-৩’-এ রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। উন্নত পর্যায়ে টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। টার্গেটেড থেরাপি হলো মুখে খাওয়ার ওষুধ, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম এবং রোগীকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখতে পারে। অনেক রোগী এই ওষুধ সেবন করে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ভালো থাকেন।

সব ধরনের রোগীর জন্য কি সুনির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস বাংলাদেশে রয়েছে? উত্তরে ডা. নাহিদ হাসান বলেন, যদিও দেশে রেডিওথেরাপি সেন্টারের সংখ্যা সীমিত, তবু আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী ফুসফুস ক্যানসারের সব ধরনের চিকিৎসাই বাংলাদেশে সম্ভব। তাই বাংলাদেশ, ভারত বা সিঙ্গাপুরে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তা সবই গাইডলাইনভিত্তিক। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরন চিকিৎসকের ইচ্ছা বা রোগীর ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে না।