গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন মজুরিকাঠামো সংক্রান্ত সেমিনারে বক্তব্য দেন বক্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন মজুরিকাঠামো সংক্রান্ত সেমিনারে বক্তব্য দেন বক্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি

জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং নতুন মজুরিকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদেরা। তাঁরা বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের আসন্ন মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন মজুরিকাঠামো কেন জরুরি?’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। তবে শ্রমিকদের দাবির তুলনায় এই মজুরি ছিল অর্ধেক। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি অনেকটাই বাড়লেও ন্যূনতম মজুরি আর বাড়েনি।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকায় যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা কেনা যেত, ২০২৬ সালে তা কিনতে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। এরপরও তাঁদের পক্ষে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেমিনারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে মালিকপক্ষ সম্মত আছে। তবে কবে এই বোর্ড গঠন করা হবে, তা সরকারের এখতিয়ার। এ ছাড়া নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নে মালিকপক্ষের কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন গ্রেডের মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা বলা হলেও বাস্তবে এর নিচে আরেকটি গ্রেডে ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শ্রমিকপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং মজুরি বোর্ডে নিজেদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করতে হবে। শিল্পের উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতেই শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি দেওয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার প্রমুখ।