
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের হোন্ডা মিছিল থেকে গুলি করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মো. আল-আমিন হোসেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সেই হোন্ডা মিছিল থেকে করা গুলিতে অনেকেই আহত হয়।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আল-আমিন এই জবানবন্দি দেন। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
আল-আমিন পল্লবী থানা শাখার শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি পল্লবী শাখা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জবানবন্দিতে আল-আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আন্দোলনে ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে মিরপুর ১০ নম্বরে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ তাঁদের ওপর রাবার বুলেট ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করেন। তখন ৩ থেকে ৪ জন সাদাপোশাকধারী লোক পুলিশের মাঝখানে ঢোকেন। এরপর একটি গুলি সিয়াম সরদার নামের এক ব্যক্তির বাঁ চোখে বিদ্ধ হয়। সেই গুলি সিয়ামের মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে তাঁর (আল-আমিন) মাথার সামনে লাগে। সেই গুলির আঘাতে তাঁর মাথায় ক্ষত হয়। তিনি সেখানে পড়ে যান।
তখন তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে মাটি থেকে ওঠান এবং পানি ঢালেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে আল-আমিন বলেন, একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, সিয়ামের মাথার মগজ ও রক্ত তাঁর টি-শার্টে লেগে আছে। উপস্থিত লোকজন সিয়ামকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মাথার ক্ষত ততটা মারাত্মক ছিল না। সিয়ামের মৃত্যুতে আন্দোলন বেগবান হয়। তাঁরা সারা রাত মিরপুর ১০ নম্বরে আন্দোলন করেন।
পরদিন ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই সকালে আবার আন্দোলনে যোগ দেন বলে উল্লেখ করেন আল-আমিন। তিনি বলেন, আন্দোলনের একপর্যায়ে তাঁর কাছে সংবাদ আসে যে জুটপট্টির আসিফ, পারভেজ, রুবেলসহ আরও অনেকেই শহীদ হয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের কল রেকর্ডে শুনতে পান, তাঁরা কারফিউ জারি করে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আল-আমিন। জুলাইয়ে হতাহতের জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগের পরিচালনাকারীদের দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন আল-আমিন।
এ মামলার আসামি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার আছেন। এই সাক্ষীর জবানবন্দির সময় আজ তাঁরা ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।