সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে
সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে

আবারও সড়কে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা চাঁদার পক্ষে বললেন মন্ত্রী

আবারও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা তোলার পক্ষে বললেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি নিবন্ধিত ও বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে  চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কারণ, শ্রমিক ও মালিকেরা তাঁদের কল্যাণে নেন সেটাকে আমি বলছি, চাঁদাবাজি নয়।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন এ কথাগুলো বলেন সড়কমন্ত্রী।

এর মাধ্যমে সরকার চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিচ্ছে কি না সাংবাদিকেরা এমন প্রশ্ন করলে শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো সমিতি বা সংগঠনের বৈধতা না থাকলে এবং তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেছিলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’

সড়ক পরিবহন আইনে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণে চাঁদা তোলার কোনো বিধান নেই। অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সরকার আমলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে নেওয়া চাঁদার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সমালোচনার মুখে আর এগোয়নি। এ ছাড়া কোনো শ্রমিক বা মালিক সংগঠন চালানোর জন্য যদি চাঁদা নিতেই হয় তা মাসে কিংবা বছরে রশিদের মাধ্যমে নেওয়ার রীতি আছে। কিন্তু পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রতিটি যানবাহন থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ আছে। এ ছাড়া একটি যানবাহনকে একাধিক স্থানে চাঁদা দিতে হয়। এর ফলে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানের ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয় সড়ক মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদযাত্রায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যায়, কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কেউ বেশি নিতে পারবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে তদারকি জোরদার করবে।

অবশ্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এ সুযোগে ঈদে বা উৎসবে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে থাকে এসি বাসের মালিকেরা। সড়কমন্ত্রী হয়তো এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নয়।

সড়কমন্ত্রী ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে আরও বলেন, মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চলাচলের অনুপযোগী বা বিকল হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সড়কের চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তাঁরা ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।