পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবারও খোলা থাকবে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে থাকছে বিশেষ আয়োজন।
সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র ছাড়াও উদ্যান, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, হাতিরঝিলসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অনেকেই ঈদে ঘুরতে বের হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানা মিরপুরে ভেতরের রাস্তায় সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রেও ছোটখাটো সংস্কারসহ ঈদের ভিড় সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।
ঢাকাবাসীর কাছে এখন জাতীয় চিড়িয়াখানা মিরপুর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, উত্তরার দিয়াবাড়ি, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, জিয়া উদ্যান, জাতীয় জাদুঘর, শ্যামলী শিশুমেলা, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক, যমুনা ফিউচার পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল ও তিন শ ফিট–সংলগ্ন পূর্বাচল বাজার এখন প্রধান বিনোদনকেন্দ্র।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের সময় চিড়িয়াখানায় এক থেকে দেড় লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়। অন্যান্য দিনের মতোই এ সময়ও চিড়িয়াখানা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য এবার ১৪টি বুথে টিকিট বিক্রি করা হবে। এর বাইরে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার পার্কিংয়ের জন্য একটি বুথে টিকিট বিক্রি হবে। এ ছাড়া ১৪টি লাইন দিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকবে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাসসকে বলেন, প্রতিবছরই ঈদে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর সংখ্যা এক থেকে দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। গেটে অনেক জটলা হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চিড়িয়াখানায় প্রবেশ নির্বিঘ্ন করতে লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশপাশে যাতে যানজট না থাকে, সে জন্য এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর টিকিট লাগবে না। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধীর সঙ্গে যিনি সহকারী থাকবেন, তাঁরও টিকিট লাগবে না।
রফিকুল ইসলাম তালুকদার আরও জানান, ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রং করা হয়েছে এবং নিষ্ক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবেন, সেই নির্দেশনার বোর্ডগুলোও যথাস্থানে বসানো হয়েছে। পানীয়–জাতীয় খাবারের জন্য দর্শনার্থীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে।
অন্যদিকে শ্যামলীর শিশুমেলা আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র। সেখানে আছে ৪০টির মতো রাইড। পরিবারের সবার চড়ার মতো আছে ১২টি রাইড।
শিশুমেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা।
এদিকে ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনে রাজধানীর হাতিরঝিল হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদনকেন্দ্র। পুরো হাতিরঝিল ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে চক্রাকার বাস সার্ভিসও। তা ছাড়া লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে ওয়াটার বাস। আশপাশে বেশ কিছু রেস্তোরাঁও রয়েছে।
লালবাগের কেল্লা পুরান ঢাকায় অবস্থিত। এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন, তথা পর্যটনস্থল। খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। টিকিটের মূল্য ২০ টাকা।
শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক। পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোগল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।
এ ছাড়া ঢাকার অদূরে রয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক।