
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সার্ভার থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের আবেদনের নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী, সেটি এখনো বের করতে পারেনি সংস্থাটি। রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষজ্ঞ দলের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নথিপত্র গায়েব হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।
নথিপত্র গায়েব হওয়ার বিষয়টি রাজউক প্রথম জানতে পারে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর। যেসব গ্রাহকের নথিপত্র হারিয়েছে, তাঁরা ২০১৯ সালের মে মাস থেকে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেতে আবেদন করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মে মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে ভবনের নির্মাণ অনুমোদন ও ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু করে রাজউক।
এর অংশ হিসেবে গ্রাহককে রাজউক নির্ধারিত একটি ওয়েবসাইটে ঢুকে আবেদন করতে হয় ভবনমালিককে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (টেকনোহ্যাভেন কোম্পানি লিমিটেড) সহযোগিতায় ওয়েবসাইট পরিচালনার কাজটি করে আসছে রাজউক। ওই প্রতিষ্ঠান এখনো রাজউককে জানাতে পারেনি, কেন ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হয়েছিল এবং কেন নথিগুলো গায়েব হলো।
নথি গায়েব হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ওই ওয়েবসাইটে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর ওয়েবসাইটটিতে আবার গ্রাহকের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত আবেদন নেওয়া শুরু করে রাজউক। বিষয়টি নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর ‘রাজউক থেকে ৩০ হাজার গ্রাহকের নথি গায়েব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এরপর বিষয়টি তদন্তে রাজউককে নির্দেশনা দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়।
প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, রাজউক থেকে অন্তর্বর্তীকালীন একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাজউককে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয় রাজউক। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত রাজউক তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পায়নি এবং নিশ্চিত হতে পারেনি, কেন ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হলো এবং সার্ভার থেকে নথি হারিয়ে গেল।
জানতে চাইলে রাজউকের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার প্রধান কাজী মোহাম্মদ মাহাবুবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছিল। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত, কোন উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল, এখনো জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জানা যাবে।
দুই মাস আগে সার্ভার থেকে গায়েব হওয়া কোনো নথি উদ্ধার করা গেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না রাজউক। সরকারি এ সংস্থার কিছু কর্মকর্তার দাবি করছে, বেশির ভাগ নথি উদ্ধার করা গেছে। তবে কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, হারানো নথির আংশিক উদ্ধার করা গেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সার্ভার জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত কাজ (যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজটি হয়) করতে পারেনি রাজউক। ভবনের নকশাসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র গ্রাহককে এই ওয়েবসাইটেই আপলোড করতে হয়।
নথি উদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব গ্রাহক নতুন আবেদন করেছিলেন, অর্থাৎ যাঁদের আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছিল, রাজউকের পক্ষ থেকে তাঁদের খুদে বার্তা পাঠিয়ে নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে বলা হয়েছে।
এর মাধ্যমে কিছু গ্রাহকের নথি পুনরায় ওয়েবসাইটে এসেছে। আর যাঁরা আগে নির্মাণ অনুমোদন ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের সনদ পেয়েছিলেন, তাঁদের নথি এখনো ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে শুধু ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের সনদ ওয়েবসাইটে (গ্রাহকের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে) পাওয়া যাচ্ছে, নির্মাণ অনুমোদনসংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে এমআইএস শাখার প্রধান কাজী মোহাম্মদ মাহাবুবুল হক দাবি করেছেন, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই সব গ্রাহকের নথি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।