
দেশের অন্যতম বিজ্ঞানভিত্তিক ও পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস নতুন ঠিকানায় চালু করেছে তাদের বনানী শাখা।
গত শনিবার রাজধানীর বনানীর নতুন ঠিকানায় (লেভেল-২, কাজীস হেরিটেজ, হাউস-৪৯, রোড-১১) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই শাখার রি-ওপেনিং অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল হক, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল বিদ্যা সিনহা মিম। আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ফারজানা ইসলাম (মেক ইট আপ বাই ফারজানা ইসলাম), ইশায়া তাহসিন এবং আয়েশা আক্তার তৌশি (নেভার টু এক্সট্রা)। অতিথিরা বায়োজিনের নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক স্কিনকেয়ার সেবা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ জাহিদুল হক বলেন, ‘বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস আসলে একটি অ্যাস্থেটিক ইকোসিস্টেম, যেখানে আপনি একই ছাদের নিচে স্কিনকেয়ার, হেয়ারকেয়ার, বেবিকেয়ার একটা ইকোসিস্টেমের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো, অথেনটিক ও নিরাপদ পণ্য খুঁজে পাওয়া। বায়োজিন থেকে কোনো পণ্য কিনতে গেলে কখনোই চিন্তা করতে হবে না এটি আসল নাকি নকল। আমার ফিলোসফি হচ্ছে, যদি কোনো প্রোডাক্ট আমি বা আমার স্ত্রী বা সন্তান ইউজ করতে না পারে, তাহলে তা আমরা মার্কেটে দিই না।’
অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘বায়োজিন বিশ্বসেরা, কারণ এটি দুটি গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিউজ পোর্টালে বায়োজিন নিয়ে ফিচার করা হয়েছে। আমি বায়োজিনের মোটামুটি সব ট্রিটমেন্ট নিয়েছি। তার মধ্যে বায়োহাইড্রা ফেশিয়াল ট্রিটমেন্ট, বায়োলেজার ও ইপিএন ট্রিটমেন্ট বেস্ট। বায়োজিন সব সময় সব ধরনের মানুষের কথা চিন্তা করে সাধ্যের মধ্যে সার্ভিস দেয়।’
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের স্কিনকেয়ার খাতে নতুন ধারার সূচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক মানুষের ত্বকের ধরন, জীবনযাপন, পরিবেশগত প্রভাব এবং ত্বকের প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে তাদের জন্য উপযুক্ত, নিরাপদ ও কার্যকর স্কিনকেয়ার সমাধান দেওয়া।
বর্তমানে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস সারা দেশে ২০টি শাখা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রায় ৮৩ শতাংশ নারী, যা নারীর কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্ভাবনী কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসে প্রতিষ্ঠানটি ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে উদ্ভাবনী কসমেসিউটিক্যালস ব্র্যান্ড’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়। স্কিনকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ অবদান এবং এসবের স্বীকৃতির কথা শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিজনেস ইনসাইডার, ওমেন্স ইনসাইডার, ইয়াহু ফাইন্যান্স, এপি, এবিসি, ফক্স নিউজ ইত্যাদিতেও গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহিদুল হক ২০২৩ সালে সিইও রিভিউ ম্যাগাজিন কর্তৃক ‘এন্টারপ্রেনিউর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস থেকে স্ট্যানফোর্ড সিড ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
নতুন ঠিকানায় বনানী শাখার এই যাত্রার মাধ্যমে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস আরও উন্নত পরিবেশে গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ট্রিটমেন্ট, অথেনটিক ডার্মো-কসমেটিকস এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শভিত্তিক পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ার সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভবিষ্যতে আরও গবেষণাভিত্তিক পণ্য উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস।