
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে যেসব পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নের দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করতে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা চিহ্নিত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এই অভিজ্ঞতা থেকে খাতা মূল্যায়নের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, যেসব পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নের দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর যাঁরা ভুলভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচএসসিতে যেসব পরীক্ষার্থী এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের যেন পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে।
৭ নভেম্বর পর্যন্ত খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হবে বলে জানান এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুল মূল্যায়ন নয়, প্রকৃত ফলাফল চান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার মান জানা জরুরি।
এহছানুল হক মিলন এবারের ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত ফলাফল জানা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণে যাঁদের ফলাফল পরিবর্তন হয়ে পাস হবে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পরও যাঁরা অকৃতকার্য থাকবেন, তাঁরা ভর্তি হতে পারবেন না।
ফলাফলের দিন নতুন বই
নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যাবে। ডিসেম্বরের যেকোনো দিন বই বিতরণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা যেদিন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরবে, সেদিনই তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনের সহযোগিতায় কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চীনের সহযোগিতায় দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ চলছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ আট বিভাগে আটটি এবং কক্সবাজারে একটিসহ মোট নয়টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম, ল্যাব, শিক্ষক ও ভাষাশিক্ষা চালু করা হবে। কারিকুলাম তৈরি ও সার্টিফিকেশনেও চীনের অংশগ্রহণ থাকবে। দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাশিক্ষা চালু হয়েছে।
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে জানান এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি নেওয়া হবে। এ কর্মসূচি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।