কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানা ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। ফিলিপনগর, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া। ১১ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানা ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। ফিলিপনগর, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া। ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইল মাকাম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিফনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরের দরবারে হামলা চালিয়ে পীর শামী, আল জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম এ দাবি জানায়।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দরবারে হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে পীর শামীম আল জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। এ সময় আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ হামলায় মাজারের বেশ কয়েকজন আহত হন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম উল্লেখ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১টি ঘটনায় মামলা হলেও কোনোটিরই কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হামলার শিকার মাজারগুলোর ক্ষতিপূরণ, সংস্কার ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে মাকামের পক্ষ থেকে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দলগুলো তাদের ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই কুষ্টিয়ায় এমন নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মাকাম এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে।