সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী বিসিকের কাজ এখন শেষ হওয়ার পথে। ওই দুটি বিসিকে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো প্লট পেতে আগ্রহী।

পাঁচ মাস আগে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ রাজশাহী বিসিকে ১০ বিঘার একটি প্লট বরাদ্দ পেতে আবেদন করেছে। আমের জেলায় আম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করতে চায় দেশের শীর্ষস্থানীয় এ শিল্পগোষ্ঠী।
তবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ওই আবেদন মঞ্জুর করেনি। কারণ, সেখানে এখনো প্লট বরাদ্দের দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। তবু প্রাণ-আরএফএলের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী সেখানে প্লট পেতে আগ্রহী।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী জেলায় তাঁদের কোনো আম প্রক্রিয়াকরণ কারখানা নেই। তাই রাজশাহী বিসিকে তাঁরা কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন, যাতে বাগান থেকে দ্রুততম সময়ে আমের চালান কারখানায় এনে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। প্রাণ গ্রুপ এই কারখানায় আম প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াও ম্যাঙ্গো বার, স্ন্যাক্স ও বেকারিপণ্য তৈরি করবে। সেই সঙ্গে শাকসবজি প্রক্রিয়াকরণের আগ্রহও আছে তাঁদের।
তবে রাজশাহীতে কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে তা চূড়ান্ত করেনি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অবশ্য ৩ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে—এমন কারখানাই স্থাপন করতে চায় তারা।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা বলেন, ‘আমরা ১০ বিঘার একটি প্লট চেয়েছি। আমাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলে দ্রুত কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করব এবং উৎপাদনে যাব। যত দ্রুত প্লট পাব, তত দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরও জানান, প্লটের আকার ও সুযোগ-সুবিধা বুঝে বিনিয়োগের অঙ্ক ঠিক হবে।
৫০ একর জমিতে রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী-২ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। রাজশাহীর মতো সিরাজগঞ্জ বিসিকের উন্নয়নকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তা এই দুটি বিসিকের তৈরি করা প্লট পেতেই বেশি আগ্রহী।
স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী নাবিল গ্রুপও রাজশাহী বিসিকে প্লট পেতে চায়। এই গ্রুপের মূল ব্যবসা আটা, ময়দা, সুজি, দুধসহ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ। এ ছাড়া পরিবহন ব্যবসাও আছে তাদের। এই গ্রুপ রাজশাহী বিসিকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করতে চায়। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় এই শিল্পগোষ্ঠীর বার্ষিকলেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে সাত কিলোমিটার উত্তরে যমুনা নদীর তীরে ৪০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে বিসিকের সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থিত এই শিল্পপার্কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। বঙ্গবন্ধু সেতুর মাধ্যমে যমুনার এপার-ওপারে সংযুক্ত মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় এই শিল্পপার্কের প্রতি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে বলে জানান বিসিকের কর্মকর্তারা।
কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী কাজী ফার্মস গ্রুপ। এটি মুরগির বাচ্চা, ডিম, মাংস উৎপাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তারা সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কে ১০ একর জমির একটি প্লট চেয়েছে। সেখানে তারা পোলট্রি খাবার তৈরির কারখানা করতে চায়। কাজী ফার্মস গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজী ফুডস লিমিটেড, কাজী ফার্মস লিমিটেড ও কাজী মিডিয়া লিমিটেড (দীপ্ত টিভি)।
সিরাজগঞ্জের স্থানীয় এম এ মতিন কটন মিলস বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠান তাদের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের জন্য সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কে ২০ একর জমি চেয়েছে। তারা স্পিনিং মিল করতে চায়। প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জের মূল বিসিকে মতিন কটন মিলের প্রায় দুই লাখ বর্গফুটের কারখানা আছে।
বগুড়ার ওয়ান ফার্মাও সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কে কারখানা করতে চায়। কয়েক মাস আগে তারা ১০ একর জমি চেয়ে আবেদন করেছে। সিরাজগঞ্জের উদ্যোক্তাদের শিল্পগোষ্ঠী মণ্ডল গ্রুপও প্লট চেয়েছে। মণ্ডল গ্রুপ তৈরি পোশাকের ব্যবসা করে।
এখানেই শেষ নয়। গত বছর চীনা বিনিয়োগকারীদের একটি দল সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কের অর্ধেক জমি নিতে চেয়েছিল। ওই সময়ে তাঁরা সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক পরিদর্শনও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক প্রকল্পের পরিচালক আবদুল খালেক বলেন, বিসিকের প্লটের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে অবস্থানগত দিক থেকে সুবিধাজনক হওয়ায় সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বেশ বেড়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী প্লট চেয়েছে। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
২০১১ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১১ বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এ জন্য ৭১৯ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা।