মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঠিক দামে চামড়া কেনার পরামর্শ

চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার খরচ বেড়েছে

কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ বাড়ছে। লবণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রক্রিয়াজাত খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বর্গফুটপ্রতি চামড়ার দর কম নির্ধারণ করায় স্থানীয় আড়তদারেরা এবার লাভ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বুঝেশুনে নির্ধারিত দামের মধ্যে চামড়া কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। আড়তদারেরা প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ২৮ টাকার বেশি দামে এবার কিনতে পারবেন না বলে মনে করছেন। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের এর চেয়ে কম দামে চামড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
সম্প্রতি চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ বলেন, ‘এবার দরও কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ওপর লবণের দাম দ্বিগুণের বেশি। এই অবস্থায় চামড়া সংরক্ষণ খরচ অনেকে বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যে আমরা শ্রমিকও ঠিক করে ফেলেছি। লবণও কেনা হয়েছে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ঢাকার ব্যবসায়ীরা ৪০ টাকার বেশিতে নেবেন না। সে জন্য আড়তদারেরা ২৫ থেকে ২৮ টাকার বেশিতে কাঁচা চামড়া কিনলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন নূর আহমদ।
চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপোর আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি বড় চামড়া (৩৫ থেকে ৪০ বর্গফুট) প্রক্রিয়াজাত করতে ৩০০ টাকার মতো খরচ পড়বে এবার। গত বছর খরচ ছিল ১৫০ টাকা। এই হিসেবে ২৮ টাকায় প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার পর তাতে আরও ৮ টাকা লবণ এবং শ্রমিকের খরচ যোগ হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ এবার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছর প্রতি বস্তা লবণের দাম ছিল ৫০০ টাকা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেকান্দর মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার খরচ বেড়ে গেছে। তাই এবার আশানুরূপ লাভ হবে কি না, বুঝতে পারছি না।’
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ। এর মধ্যে ৪ লাখের বেশি গরুর চামড়া, ১ লাখের বেশি ছাগলের এবং ১০ হাজারের মতো মহিষের চামড়া রয়েছে। চট্টগ্রামে বর্তমানে কোনো ট্যানারি না থাকায় এখানকার আড়তদারেরা ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে থাকেন।