বাংলাদেশে ধানের বীজ আমদানিতে ১০ বছর ধরে ভারতের বদলে চীন প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মোট আমদানি করা হাইব্রিড ধানবীজের ৯০ শতাংশের বেশি আসছে চীন থেকে আর ভারত থেকে মোট আমদানির মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ জোগান আসছে।
অথচ ভারত থেকে ধানবীজ আমদানি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। এমনকি সীমান্তের জেলাগুলোতে বৈধ ও অবৈধপথে আসা ভারতীয় ধানবীজের ব্যবহার বাড়ছে। গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমুন্নয়ের এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ভারতের গবেষণা সংস্থা কনজুমার ইউনিটি ট্রাস্টের (কাটস) সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ধানবীজ বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ ও অপসারণ বিষয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ২১ লাখ ৬৬ হাজার ডলারের হাইব্রিড ধানবীজ আমদানি করেছে। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ১৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বীজ। আর চীন থেকে আমদানি হয়েছিল মাত্র দুই লাখ ১৬ হাজার ডলারের বীজ।
কিন্তু পরের বছরই পুরো চিত্র পাল্টে যায়। সে বছর চীন থেকে আমদানি করা হয় ২০ লাখ ৭৪ হাজার ডলারের হাইব্রিড ধানবীজ। আর ভারত থেকে আসে মাত্র ৩৬ হাজার ডলারের বীজ। অনেকটা হঠাৎ করেই ধানবীজ আমদানির এই চিত্র পুরো উল্টে যাওয়ার কারণটি পরিষ্কার নয় বলে উন্নয়ন সমুন্নয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর প্রতিবছরই চীন থেকে ধানবীজ আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। ২০০৮ সালে মোট আমদানি করা ধানবীজের ৯৯ শতাংশই আসে চীন থেকে, যার অর্থমূল্য এক কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ওই বছর ভারত থেকে নামমাত্র ১৭ হাজার ডলারের ধানবীজ আমদানি হয়েছিল। আর পরের বছর তা মাত্র পাঁচ হাজার ডলারে নেমে আসে।
সর্বশেষ ২০১১ সালে চীন থেকে আমদানি হয়েছে ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার কোটি ডলারের ধানবীজ। আর এই বছর ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৫৩ হাজার ডলারের সমপরিমাণ ধানবীজ। ২০১২ সালের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন থেকে আরও দেখা যায়, চীন থেকে যেসব ধানবীজ আমদানি করা হয়, তার দাম ভারত থেকে আমদানি করা ধানবীজের তুলনায় অনেক বেশি। যেমন, ২০১১ সালে চীন থেকে আমদানি করা যে ধানবীজের প্রতি কেজির দর ছিল ২ দশমিক ৭১ ডলার, একই ধরনের ভারতীয় ধানবীজের দর ছিল দশমিক ৪৬ ডলার।