দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত বিদেশিদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয় পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সে জন্য সদস্যদের কাছে তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করে সংগঠনটি। তবে সময়সীমা দুই সপ্তাহ আগে শেষ হলেও অধিকাংশ সদস্য কারখানাই সেটা মানেনি।
গতকাল বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৪৭টি পোশাক কারখানা তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের তথ্য বিজিএমইএর কাছে পাঠায়। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ১৫০ জন বিদেশি। এঁদের মধ্যে ৭৩ জন শ্রীলঙ্কান, ৪৫ জন ভারতীয়, ৯ জন তুর্কি, ৬ জন কোরিয়ান নাগরিক। বাকি ১৭ জন অন্য দেশের নাগরিক। এসব তথ্য দিয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, কারখানাগুলোতে বিদেশিরা মূলত প্রকৌশলী, বিপণন ও ব্যবস্থাপক পদে কাজ করেন।
বিজিএমইএর নিবন্ধিত সদস্য কারখানার সংখ্যা বর্তমানে ৪ হাজার ২২২টি। অর্থাৎ প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য দেয়নি। অবশ্য ৪ হাজার ২২২ কারখানার সব কটি উৎপাদনে নেই। তৈরি পোশাক খাতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার নাগরিক কর্মরত আছেন বলে গত মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে জানান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তবে কোন দেশের কতজন সেই পরিসংখ্যান সংগঠনটির কাছে নেই।
বিজিএমইএ ৭ অক্টোবর সব সদস্যের প্রতি এক নির্দেশনায় যেসব কারখানায় বিদেশি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মরত আছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট ছকে তথ্য চায়। এতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তালিকা তৈরির কাজ করছে। বিজিএমইএ সদস্যদের কাছে বিদেশি নাগরিকের নাম, ঠিকানা, কোন দেশের নাগরিক, মুঠোফোন নম্বর, আবাসিক ঠিকানা, যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সে প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ও বাংলাদেশে আগমনের তারিখ উল্লেখ করতে বলা হয়। সে জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে সংগঠনের সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে পোশাক কারখানায় কর্মরত বিদেশিদের তালিকা চাওয়া হয়। মূলত বিদেশিদের কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি বাসভবনে যাতে বেশি নিরাপত্তা দেওয়া যায় সে জন্যই এই উদ্যোগ। যেসব কারখানা তথ্য দিচ্ছে সেগুলো আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’
সদস্য কারখানাগুলো নির্দেশনা কেন মানে না জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, বিপদে পড়লে সবাই কথা শুনে। তিনি বলেন, যেহেতু সব কারখানা এখনো তথ্য দেয়নি, সে জন্য আবার প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে। কথা প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কেউ এখন পর্যন্ত নিরাপত্তায় ভুগছেন বলে জানাননি।