বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আসছে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ফজলে কবির প্রথমবারের মতো এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের এ মুদ্রানীতি আগামী ২১ জুলাই ঘোষণা করা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়াস থেকে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকার-নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মুদ্রানীতিতে ঋণ ও মুদ্রার জোগান বাড়ানো বা কমানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়। চলতি অর্থবছর ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুদ্রানীতি সংকোচনমুখী না হয়ে সংকুলানমুখী হওয়া দরকার। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও বাড়ানো যেতে পারে। আমাদের প্রবৃদ্ধি যেহেতু বেসরকারি খাতনির্ভর, তাই উদ্যোক্তাদের একধরনের বার্তা দিতে হবে। পাশাপাশি শুধু বড় বড় গ্রাহকের দিকে না ছুটে ব্যাংকগুলোকে ছোট ও মধ্যম মানের উদ্যোগে অর্থায়ন করতে হবে। তাহলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমাদের সমতাভিত্তিক উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে।’
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে শুধু নির্দেশনা না দিয়ে তদারকি বাড়াতে হবে। আমাদের যে অর্জনগুলো আছে, তা সুসংহত করতে হবে। যে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো আসছে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, এসবের দিকে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি সেবাগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’
জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গত মে মাসেই বেসরকারি ঋণ ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জুন শেষে তা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি ঋণপ্রবাহ এক থেকে দেড় শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ১৫ দশমিক ৮০ থেকে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে। তবে নীতিনির্ধারণী সুদ হারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার চিন্তা করছে না।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ যেভাবে বাড়ছে, তাতে মুদ্রানীতিতে ঋণপ্রবাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে বেরিয়ে এসেছে, অন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ না বাড়লেও রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ বাড়ছে। ২০১৫ সালের মে মাসে এসব ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, গত মে মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ শতাংশ। এসব ঋণকে অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ধরে সেভাবে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর চিন্তা করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি চলতি মাসেই ঘোষণা করা হবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।