
ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত বইয়ের জন্য ২০১৫ সালটি বেশ ভালোই গেছে। এ ঘরানার বড় বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলো এ বছর বলার মতো নতুন কিছু প্রকাশ করেনি। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের বই বা বিজনেস বুক প্রকাশে চলতি বছর বাজিমাত করেছেন অপেক্ষাকৃত অপরিচিত লেখকেরা।
এক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যের সেরা বইয়ের একটি তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করে অর্থনীতি-বিষয়ক বিশ্বখ্যাত পত্রিকা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)। এমন আরেকটি তালিকা করে অনলাইনভিত্তিক বই বেচাকেনার ওয়েবসাইট ‘এইটহানড্রেডসিইওরিড’। এফটি ও এইটহানড্রেডসিইওর তালিকা সমন্বয় করে বর্ষসেরা ১৫ বিজনেস বইয়ের আরেকটি তালিকা তৈরি করেছে বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। ফোর্বস ও এফটির তালিকায় উঠে আসা ব্যবসা-বাণিজ্যের সেরা ১০ বইয়ের তালিকাটি এ রকম:
তালিকার ১ নম্বরে থাকা বইটির নাম উই আর মার্কেট বাস্কেট: দ্য স্টোরি অব দ্য আনলাইকলি গ্রাসরুটস মুভমেন্ট দ্যাট সেভড আ বিলাভড বিজনেস। নামটি বড় হলেও এ বইটি জয় করেছে কোটি বইপ্রেমীর হৃদয়। বইটির কাহিনি তৈরি হয়েছে মার্কিন সুপার চেইন শপ ‘মার্কেট বাস্কেট’কে ঘিরে। মার্কেট বাস্কেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আর্থার ডি ডেমোউলাসকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাস্তায় নেমে আসে প্রতিষ্ঠানটির হাজারো কর্মী ও সাধারণ ক্রেতা। সিইও হিসেবে আর্থার ডেমোউলাস ক্রেতা ও কর্মীদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁরা কোনোভাবেই অপসারণের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এ বইটি যৌথভাবে লিখেছেন ড্যানিয়েল কোরশান ও গ্র্যান্ট ওয়েকার।
বছরের দ্বিতীয় সেরা বিজনেস বইয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এভরিবডি ম্যাটারস: দ্য এক্সট্রা অর্ডিনারি পাওয়ার অব কেয়ারিং ফর ইয়োর পিপল লাইক ফ্যামিলি। ব্যারি ওয়েমিলার নামের একটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বব চ্যাপম্যান ও তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব নিয়ে রচিত হয়েছে বইটি। বিলিয়ন ডলার আয় করা একটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও যে একটি পরিবারের মতো কাজ করতে পারে ও একে অন্যের বিপদে আগলে রাখতে পারে, সেই মানবিক দিকটিই এ বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৮ সালের মহা অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে ব্যারি ওয়েমিলারের একজন কর্মীও চাকরি হারাননি। প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মীই ওই সময়ে অসাধারণ ধৈর্য ও ত্যাগ স্বীকার করেন।
তালিকায় তৃতীয় স্থান পাওয়া বইটির নাম হাউ টু ফ্লাই এ হর্স: দ্য সিক্রেট হিস্টোরি অব ক্রিয়েশন, ইনভেনশন অ্যান্ড ডিসকভারি। প্রযুক্তি-বিষয়ক সফল মার্কিন উদ্যোক্তা কেভিন অ্যাস্টোন এ বইটির লেখক। সফল উদ্যোক্তা হতে উদ্ভাবন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিই এই বইয়ে তুলে আনা হয়েছে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা বইটি হলো দ্য কম্পাস অ্যান্ড দ্য নেইল: হাউ দ্য প্যাটাগোনিয়া মডেল অব লয়ালটি ক্যান সেভ ইয়োর বিজনেস অ্যান্ড মাইট জাস্ট সেভ দ্য প্লানেট। একটি কোম্পানি কীভাবে গ্রাহকের আনুগত্য বা ব্র্যান্ড লয়ালিটি অর্জন করতে পারে, সে বিষয়টিই এই বইয়ে উঠে এসেছে। বইটির লেখক ত্রেইগ উইলসন, দাম ২১ ডলার ৫৫ সেন্ট।
বাণিজ্য-বিষয়ক এ বছরের অন্যতম সেরা একটি বই দ্য রেভিনিউ গ্রোথ হ্যাবিট: দ্য সিম্পল আর্ট অব গ্রোয়িং ইয়োর বিজনেস বাই ফিফটিন পারসেন্ট। বইটি তালিকার ৫ নম্বরে আছে। ধুঁকতে থাকা একটি ব্যবসাকে কীভাবে লাভজনক ও টেকসই করা যায়, তারই ২২টি পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। লিখেছেন অ্যালেক্স গোল্ডফেইন।
তালিকার পরের বইটির নাম ‘বস লাইফ: সারভাইভিং মাই ওন স্মল বিজনেস’। ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন ব্যক্তির ব্যর্থতার স্মৃতিকথা লেখা হয়েছে এ বইয়ে। বইটির লেখক নিউইয়র্ক টাইমস-এর কলামিস্ট পল ডাউনস।
রিক্লেইমিং কনভারসেশন: দ্য পাওয়ার অব টক ইন এ ডিজিটাল এজ-বইটি তালিকার সপ্তম স্থানে আছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ করার প্রবণতা কতটা কমে গেছে, সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব কতটুকু—এমন বিষয়গুলো উঠে এসেছে বইটিতে। বইটির লেখক শেরি টার্কল।
এ তালিকার পরের বইটি হলো আমেরিকাস ব্যাংক: দ্য এপিক স্ট্রাগল টু ক্রিয়েট দ্য ফেডারেল রিজার্ভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তৈরির ইতিহাস উঠে এসেছে বইটিতে। বইটি লিখেছেন রজার লোয়েনস্টেইন।
এ তালিকার ৯ ও ১০ নম্বরে থাকা বই দুটি হলো মিসবিহেভিং: দ্য মেকিং অব বিহেভিওরিয়াল ইকোনমিকস ও ফাউ মিউজিক গট ফ্রি: হোয়াট হ্যাপেনস হোয়েন অ্যান এন্টায়ার জেনারেশন কমিটস দ্য সেম ক্রাইম।