
কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র বা ভেন্টিলেটর তৈরিতে নেমেছে দেশের ইলেকট্রনিকস খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেড। ইতিমধ্যে তারা কিছু ভেন্টিলেটর তৈরি করেছে, যা দুটি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে।
মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটির কার্যকারিতা পাওয়া গেলে এবং কোনো পরিবর্তনের দরকার হলে সেটা করার পর উৎপাদনের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি পেলে সরঞ্জাম প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা দিনে ১০০টির মতো ভেন্টিলেটর তৈরি করতে পারব।’
রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ভেন্টিলেটরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানান রাজ্জাক খান। তিনি আরও বলেন, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ভেন্টিলেটরের নকশা দিয়েছে। আর এটি তৈরির তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় ভেন্টিলেটরের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯-এর চিকিৎসায় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন হয়।
মিনিস্টার হাইটেক পার্ক মিনিস্টার ব্র্যান্ডের টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি করে। মাইওয়ান ব্র্যান্ডের পণ্যও তাদের। মাইওয়ান ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
রাজ্জাক খান বলেন, তাঁরা উন্নতমানের ভেন্টিলেটর তৈরি করছেন। একেকটির খরচ পড়বে এক লাখ টাকার কাছাকাছি। বাজারে এগুলোর দাম চার-পাঁচ লাখ টাকা। তিনি বলেন, শুরুতে তাঁরা শুধু সরকারকেই দেবেন। পরে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতের চিন্তা রয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ ভেন্টিলেটরের পেটেন্ট, নকশা ও সোর্স কোড গ্রহণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
মিনিস্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকার এ সপ্তাহের মধ্যেই তাদের নকশার অনুমোদন দিতে পারে বলে আশা করছে তারা। আগামী সপ্তাহ থেকেই উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে তাদের। চীন থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কাঁচামাল আনা হচ্ছে।