নানা ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে আইনটি ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা

ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই

নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে (যা ভ্যাট আইন নামে পরিচিত) ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকছে। তবে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে বহুল আলোচিত এ আইনটি আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এই আইনে যেসব সংশোধন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে ব্যবসায়ীদের অনেক আপত্তির সুরাহা হবে। এতে ভ্যাটমুক্ত লেনদেন সীমা ও লেনদেন কর আরোপের ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়া পণ্যের পরিমাণও বেড়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় রাখা হয়েছে সম্পূরক শুল্কও।
নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। নতুন আইনে একক ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার দাবি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। গবেষণা সংস্থা ও অর্থনীতিবিদদের কারও কারও সমর্থন ছিল এতে। তবে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ভ্যাটের হার ১৯৯১ সাল থেকে ১৫ শতাংশই আছে। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এতে অভ্যস্ত।
অর্থমন্ত্রী আগামী দুই বছরে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথাও বলেছেন বক্তৃতায়। তিনি জানান, এখন সাড়ে ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আছে। যার মধ্যে মাত্র ৩২ হাজার ভ্যাট দেয়।
ভ্যাটের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যে দুটি ছাড় পেয়েছেন তা হলো ভ্যাটমুক্ত লেনদেন বা টার্নওভার সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে সাড়ে ১১ হাজার টাকা (সপ্তাহে এক দিন বন্ধ ধরে) বিক্রিতে ভ্যাট দিতে হবে না। অন্যদিকে দেড় কোটি টাকা লেনদেনে ব্যবসায়ীরা লেনদেন কর দিতে পারবেন, এখন যে সীমা ৮০ লাখ টাকা। অবশ্য এ ক্ষেত্রে লেনদেন কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, যাঁদের মাসিক লেনদেন সাড়ে ১২ লাখ টাকার নিচে, তারা মাত্র ৪ শতাংশ হারে লেনদেন কর পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যা বিশ্বের অন্য দেশে নেই। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই তাদের তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ হার ৩ শতাংশ রাখার দাবি করেছে।
ভ্যাট আইনে অনাদায়ি কর আদায়ে সহযোগী হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর আত্মীয়কে দায়ী করার কথা ভাবা হয়েছিল, সংশোধন করে সেখান থেকে আত্মীয়দের বাদ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিগুণ ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি
এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ১ হাজার ৪৩টি এইচএস কোডভুক্ত (বাণিজ্যে পণ্য শনাক্তকারী নম্বর) আইটেমকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এখনকার আইনে অব্যাহতি ছিল ৫৩৬টি আইটেমে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের মধ্যে পড়ে এমন প্রায় ৫৪৯টি পণ্যে ও জীবন রক্ষাকারী ৯৩ ধরনের ওষুধ, গণপরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং কৃষি, গবাদিপশু, মৎস্য চাষ খাত-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০৪টি ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে এবং কোনো অবস্থাতেই কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না।