
প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ দেশে আনার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক্সচেঞ্জ হাউস খুলেছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। তবে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও স্থানীয় ব্যাংকগুলোর নতুন নীতিমালার ফলে বন্ধ হয়ে গেল প্রতিষ্ঠানটি।
গত ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১ কোটি ৮০ লাখ টাকা) লোকসান দেয়। ফলে মুনাফার পরিবর্তে এক্সচেঞ্জ হাউস খুলে লোকসান গুনতে হচ্ছে অগ্রণী ব্যাংককে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি নেয় অগ্রণী ব্যাংক। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় অগ্রণী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (অস্ট্রেলিয়া) পিটিই লিমিটেড। ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল সিডনিতে এক্সচেঞ্জ হাউসটি চালু করা হয়। বন্ধের আগ পর্যন্ত কয়েক দফায় ৫ লাখ ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূলধন নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাত্রার শুরু থেকেই তারা লোকসানে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এক্সচেঞ্জ হাউসটি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। আর সিদ্ধান্তটি গত ৩০ জুন কার্যকর হয়। এক্সচেঞ্জ হাউসটির মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এক্সচেঞ্জ হাউসটি বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদনের জন্য আবেদন করে ব্যাংকটি। গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও এক্সচেঞ্জ হাউসটি বন্ধের অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা অগ্রণী ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউসটি বন্ধের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকগুলো অর্থ স্থানান্তর করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের হিসাব রাখতে চাইছে না। অগ্রণী এক্সচেঞ্জের ৫টি হিসাব বন্ধ করে দেয় ব্যাংকগুলো। ফলে আর কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে লোকসানও বাড়ছিল। এ কারণে এক্সচেঞ্জ হাউসটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ব্যাংক।
কর্মকর্তারা বলছেন, হাউসটি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের জানাতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকেও অনুমতি নিতে হবে। যে মূলধন আছে তা হিসাব শেষে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে লোকসান হওয়ায় মূলধন প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ার লক্ষ্যে ২০০৯-১১ সাল পর্যন্ত চাহিবামাত্র এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এ তিন বছরেই প্রায় ৭০টি এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি পায় ব্যাংকগুলো। তবে এর মধ্যে ৩৬টি চালু হয়। লোকসানে পড়ে এক্সিম ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার এক্সচেঞ্জ হাউস বন্ধ করে দিয়েছে। একই কারণে যুক্তরাজ্যেও এক্সচেঞ্জ হাউস বন্ধ করে দেয় কয়েকটি ব্যাংক। সর্বশেষ বন্ধ হলো সিডনিতে অগ্রণীর এক্সচেঞ্জ হাউস।