সিঙ্গাপুরের দ্য বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদন

সিঙ্গাপুরে ৮১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এস আলমের

সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন সেন্ট্রিয়াম স্কয়ার ভবন। এই ভবনে বিনিয়োগ এস আলমের l ছবি: সিঙ্গাপুর বিজনেস টাইমস
সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন সেন্ট্রিয়াম স্কয়ার ভবন। এই ভবনে বিনিয়োগ এস আলমের l ছবি: সিঙ্গাপুর বিজনেস টাইমস

সিঙ্গাপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১০ কোটি টাকা (প্রতি সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময়মূল্য ৬০ টাকা ধরে) বিনিয়োগ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। এর কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম। খবর সিঙ্গাপুরের দৈনিক দ্য বিজনেস টাইমসের
দ্য বিজনেস টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়া এলাকার সেরেঙ্গন প্লাজার কাছে সেন্ট্রিয়াম স্কয়ার নামে নতুন এ বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। ওই ভবনটির ২৭ হাজার ১৭৯ বর্গফুট বা ৪৯টি ইউনিট কেনা হয়। বাণিজ্যিক ওই ভবনটিতে ওই পরিমাণ জায়গা খুচরা বিক্রির জন্য বরাদ্দ ছিল। যার পুরোটাই একসঙ্গে কিনে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। প্রতি বর্গফুট জায়গা ৪ হাজার ৯৬৭ সিঙ্গাপুর ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ টাকা দামে কেনা হয়।
|এ বিষয়ে মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ও একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সিঙ্গাপুরের পত্রিকাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্যানালি লজিস্টিকস নামের সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এটি মোহাম্মদ সাইফুল আলমের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এই ক্যানালি লজিস্টিকসের নামে ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়া এলাকার বেলিলিওস সড়কের গ্র্যান্ড চ্যান্সেলর হোটেলটি অধিগ্রহণ করা হয়। যার অধিগ্রহণ মূল্য ছিল ২৪ কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে গ্র্যান্ড চ্যান্সেলর হোটেলটি গ্র্যান্ড ইম্পিরিয়াল হোটেল নামে পরিচালিত হচ্ছে। তবে শিগগিরই সেটি সংস্কার করে হিলটন গার্ডেন ইন নামে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
বাণিজ্যিক ভবন সেন্ট্রিয়াম স্কয়ারের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ২০২১ সাল নাগাদ ১৯ তলা এ ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।
এস আলম গ্রুপ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের অন্যতম। ব্যাংক, বিমা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভোগ্যপণ্য, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিপিং, পরিবহন, আবাসন, স্টিল, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে শিল্প গ্রুপটি।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তির পক্ষে বিদেশে পুঁজি বা মূলধন স্থানান্তরের সুযোগ নেই। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ এন এম আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বিদেশে ছোটখাটো কিছু বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় এস আলম গ্রুপের নাম নেই।