ডিম ও মুরগি
ডিম ও মুরগি

ডিম ও মুরগির দাম কমেনি, মাছও চড়া

বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমেনি। এখনো এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে বেশি দামেই ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এর আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। আগস্টের শুরুতে পণ্য দুটির দাম বাড়ে; এরপর আর কমেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আমার আয় কম। মাংসের মধ্যে মুরগিই মূলত কেনা হয়। সেটির দামই কমছে না।
তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম

বিক্রেতারা বলছেন, গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া মুরগিসহ ব্রয়লার মুরগি মারা যায়। পরে অনেক খামারি নতুন করে আর মুরগি পালন শুরু করেননি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণেও খামারে মুরগি পালন কমেছে। এসব কারণে বাজারে ডিম-মুরগির দাম কিছুটা বেশি।

গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকার মতো বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০-৩৬০ টাকা। অবশ্য হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগির দাম কিছুটা কম, কেজি ৩০০-৩৩০ টাকা।

দীর্ঘ সময় ধরে ডিম ও মুরগির দাম না কমায় উদ্বেগ জানান রাজধানীর তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আয় কম। মাংসের মধ্যে মুরগিই মূলত কেনা হয়। সেটির দামই কমছে না।’

মাছবাজারের পরিস্থিতিও ডিম-মুরগির মতো। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছ কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। গতকাল আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২৫০-৩০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া আড়াই-তিন কেজি ওজনের রুই মাছ ৪০০ টাকা এবং কাতলার কেজি ৪২০ টাকা রাখেন বিক্রেতারা।

সবজির দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। ১০০ টাকার ওপরে দাম রয়েছে বরবটি, বেগুন ও কাঁচা মরিচের।

তেল-চিনির কী অবস্থা

২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।

মাসখানেক আগে খোলা চিনির কেজি ছিল ১০৫-১১০ টাকা। গতকাল তিনটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা দোকানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর মোড়কজাত চিনির কেজি ১২০ টাকা।

বাজারে পোলাও চাল বা সুগন্ধি চালের দাম এখনো ২০০ টাকার আশপাশে। সম্প্রতি পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির উন্মুক্ত সুযোগ থাকায় দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ সংকট থেকে দাম বাড়তি। এ জন্য তাঁরা রপ্তানি কমানোর দাবি জানান। এরপর গত মঙ্গলবার সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সবজির দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। ১০০ টাকার ওপরে দাম রয়েছে বরবটি, বেগুন ও কাঁচা মরিচের।

আকারভেদে প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২৫০-৩০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া আড়াই-তিন কেজি ওজনের রুই মাছ ৪০০ টাকা এবং কাতলার কেজি ৪২০ টাকা রাখেন বিক্রেতারা।