বাজেটে প্রত্যাশা

দেশীয় শিল্প হিসেবে সিরামিক খাতকে সুরক্ষা দিতে হবে

ইরফান উদ্দিন
ইরফান উদ্দিন

সিরামিক পণ্য এখন আর বিলাসপণ্য নয়। এটি এখন প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভোক্তারা হাইজিন তথা স্বাস্থ্যবিধির কথা ভেবে নির্মাণকাজে ও বাসাবাড়িতে সিরামিক পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। কিন্তু দেশে উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ককরসহ বেশ কিছু কারণে এসব পণ্যকে ভোক্তাদের কাছে সহজলভ্য করা যাচ্ছে না। বরং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সিরামিক পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয় আমাদের। এই শুল্ক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। কারণ, বর্তমানে রড-সিমেন্টসহ সব নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। সে জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে ভোক্তাদের কাছে আরও সুলভ দামে সিরামিক পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে বেচাকেনার পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি তা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

দেশীয় শিল্প বিবেচনায় সিরামিক খাতকে সুরক্ষা দিতে হবে। বিদেশি সিরামিক পণ্য আমদানির সময় অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। আমি মনে করি, এটা করার মতো সময় এখনো আসেনি।

সিরামিক খাতে কাঁচামাল হিসেবে প্রায় ১২ ধরনের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ককর দিতে হয় আমাদের। এগুলো অন্য খাতের তৈরি পণ্য হলেও সিরামিক খাতে তা কাঁচামাল হিসেবেই ব্যবহার হয়। তাই এসব কাঁচামালের জন্য আলাদা এইচএস কোড দিয়ে শুল্ক কমানোর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া সিরামিকের কাঁচামাল হিসেবে যে মাটি আনা হয়, তাতে অনেক আর্দ্রতা থাকে। কিন্তু শুল্ককর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আর্দ্রতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে বলা যায়, আমরা ৩০ শতাংশ পানির ওপরে ট্যাক্স দিচ্ছি।

সিরামিক খাতের উৎপাদন পর্যায়ে শুল্ককর কমানোসহ অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিলে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে না। তাতে ক্ষতির মুখে পড়বে সিরামিক খাত।

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিরামিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিসিএমইএ)