আন্তর্জাতিক কফি দিবস আজ

আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কফি উদ্‌যাপন, প্রতি কাপ কফির নেপথ্য কারিগরদের শ্রদ্ধা’। কফি চাষ ও এর প্রক্রিয়াজাতকরণে যাঁরা বিশেষভাবে অবদান রাখছেন, তাঁদের সম্মান জানিয়ে এই দিবসে স্মরণ করা হচ্ছে।

একসময় দেশে কফি পানের সুযোগ মূলত অভিজাত ক্যাফে ও ড্রয়িংরুমের শৌখিনতায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কফি–সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। কফি এখন আর শুধু বিলাসী পানীয় নয়; বাসা, অফিস, ক্যাম্পাস ও ভ্রমণের অন্যতম অনুষঙ্গ।

বিশেষ করে জেন–জি ও জেন আলফা প্রজন্মের তরুণেরা চায়ের বিকল্প হিসেবে কফিকেই দৈনন্দিন প্রধান পানীয় বানাচ্ছেন। নগরায়ণ, বৈশ্বিক জীবনযাত্রা এবং রাতে পড়াশোনা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে জেগে থাকার অভ্যাসে কফি তরুণদের জরুরি অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে।

কফি শপ ও বিন কফির বাজার বিস্তৃত হলেও দেশে এখনো ইনস্ট্যান্ট কফির দাপটই প্রধান। আলাদা যন্ত্রপাতি ছাড়া সহজে প্রস্তুত করা যায় বলে সাধারণ গ্রাহকদের বাসা ও অফিসে এটিই প্রথম পছন্দ। তা ছাড়া গলির মোড়ের টংদোকানে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ টাকায় মিলছে ইনস্ট্যান্ট কিংবা ফেনা তোলা কফি। রিকশাচালক, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ক্লান্তি দূর করার ভরসা এখন টংয়ের কফি।

অন্যদিকে ক্যাপুচিনো, লাতে, আমেরিকানো কিংবা কোল্ড কফির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা আধুনিকতা ও আভিজাত্যের প্রতীক। আমদানির তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর আমদানি কমার পর সর্বশেষ অর্থবছরে কফি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

একসময়ের শীতকালের শৌখিনতা পেরিয়ে কফি এখন বারো মাসের সঙ্গী। সকালের ক্লান্তি দূর করা থেকে গভীর রাতের আড্ডা—বাঙালির দিনযাপনে কফি এখন চায়ের মতোই এক চিরচেনা অভ্যাস।