বাজেটে শিল্পপণ্যের প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং উপকরণ সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমাদের মতো প্রতিষ্ঠান কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে যেসব উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন, তাঁদের প্রত্যেকে কাস্টমসের হয়রানির শিকার। ১ হাজার মার্কিন ডলারের কোনো পণ্য আমদানি করলে সেই পণ্যের দাম ১ হাজার ৪০০ ডলার ধরে শুল্কায়ন করছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। উদ্যোক্তারা সবাই এই হয়রানি থেকে মুক্তি চান। বাজেট বাস্তবায়ন পর্যায়ে এই বিষয়টি থেকে মুক্তি দেওয়া হলে ব্যবসার খরচ কিছুটা কমবে।
এ ছাড়া বাজেট সুলিখিত; সুপঠিতও মনে হয়েছে। বাজেটে দেশের অর্থনীতির মঙ্গলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য যা যা দরকার সেগুলোর অনেক কিছুই আছে। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে যে পরিমাণ তহবিল দরকার, সেটি কোথা থেকে আসবে। সেটি সুস্পষ্ট করা হয়নি। দ্রব্যমূল্য সহনীয় করতে অনেক পণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থায়ন কোথায় থেকে আসবে, সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, রাজস্ব আদায় না বাড়লে বাজেট বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়বে।
বাজেটে ব্যবসা সহজ করার বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ হবে।সৈয়দ নাসির, এমডি, এক্সক্লুসিভ ক্যান
নির্বাচিত সরকার জনগণের সন্তুষ্টির জন্য বাজেটে ভালো ভালো কথা বলেছে। মানুষের চাহিদা পূরণে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীরা বড় বাজেট শুনলেই আঁতকে উঠি। তার কারণ দিন শেষে বড় বাজেট বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ কর আহরণের চাপ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে এসে পড়ে। বিগত সরকারের আমল থেকে বড় বাজেট দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বড় বাজেট অর্জনযোগ্য কি না, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি। তারপরও রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে ব্যবসা সহজ করার বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ হবে। তবে আমলাতন্ত্রের সংস্কার না আনা গেলে ব্যবসা সহজ করার এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ঘোষিত বড় বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সরকার যদি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তাহলে ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি ফেরানো কঠিন হবে। তখন বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় ঋণ পাবে না। সরকার ১১–১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিলে ব্যাংকগুলো সেটিকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করে। তখন ব্যাংকগুলো শিল্পকারখানায় ঋণ দেওয়াকে বরং ঝুঁকিপূর্ণ মনে করবে। তাই সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে না। ঋণের সুদহারও কমবে না।
সৈয়দ নাসির, এমডি, এক্সক্লুসিভ ক্যান