
প্রথম আলো: দীর্ঘদিন ধরেই আপনারা মানসম্মত ও শৈল্পিক নকশার আধুনিক আবাসন প্রকল্প করছেন। আধুনিক স্থাপত্যের এই ধারা কীভাবে তৈরি করলেন? প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আপনারা কী ধরনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন?
কাজী আশিক উর রহমান: ১৯৯৬ সালে আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আবদুর রউফ চৌধুরীর দূরদর্শী চিন্তাধারা থেকেই র্যাংগস প্রপার্টিজের যাত্রা শুরু হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য কখনোই কেবল কতগুলো বহুতল ভবন তৈরি করা ছিল না; আমরা চেয়েছিলাম দেশের আবাসন খাতে নন্দনতত্ত্ব ও আধুনিক জীবনধারার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে। এই ধারা সফল হওয়ার মূল কারণ আমাদের ‘ইন-হাউস ইকোসিস্টেম’। আমাদের নিজস্ব আর্কিটেকচারাল টিম ‘ইনস্পেস আর্কিটেক্টস’, প্রকৌশলী এবং বিক্রয়–পরবর্তী ব্যবস্থাপনা দল যৌথভাবে প্রতিটি প্রকল্পকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে গড়ে তোলে। আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি, যা আমাদের প্রতিটি নির্মাণকে কেবল আবাসন নয়, বরং কালজয়ী ল্যান্ডমার্কে পরিণত করেছে।
প্রথম আলো: একটি আবাসন প্রকল্প করার আগে আপনারা কোন বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দেন? নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা এখন কী ধরনের আবাসন চাইছেন? তাঁদের চাহিদাকে আপনারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?
কাজী আশিক উর রহমান: যেকোনো প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার আগে আমরা তিনটি বিষয়ে কোনো আপস করি না—প্রাইম লোকেশন, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য। বর্তমান সময়ের নতুন প্রজন্মের ক্রেতা ও তরুণ পেশাজীবীরা কেবল চারদেয়ালের একটি ফ্ল্যাট চান না; তাঁরা চান একটি পরিপূর্ণ লাইফস্টাইল হাব। মিনিমালিস্টিক ডিজাইন, ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, কাজ ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং উন্নত প্রযুক্তি এখন তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। আমরা তাঁদের এই লাইফস্টাইলকে সম্মান জানিয়ে প্রকল্পগুলোতে বুটিক কনসেপ্ট আনছি—যেমন বারান্দা বাগান, দ্বিতলবিশিষ্ট প্রবেশপথ, বিলাসবহুল লাউঞ্জ এবং ছাদে সুইমিংপুল। এতে ভবনের কার্যক্ষমতা বাড়ছে এবং গ্রাহকেরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এক আধুনিক আবাসন পরিবেশ।
প্রথম আলো: আগামী দিনে আপনারা আইকনিক কোনো প্রকল্প কি করছেন? সেখানে কী কী থাকছে?
কাজী আশিক উর রহমান: আমাদের আবাসিক খাতের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘দ্য মোনার্ক’ গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থিত। প্রকল্পটিতে দুটি ভূগর্ভস্থ পার্কিং, গ্রাউন্ড, মেজানাইনসহ মোট ১২টি তলা রয়েছে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট।
গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নির্মিত হচ্ছে আমাদের বাণিজ্যিক খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প ‘আর কে স্কয়ার’। আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই বাণিজ্যিক টাওয়ারের নকশা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধানমন্ডিতে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘একে স্কয়ার’। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও করপোরেট সুবিধাসমৃদ্ধ এই প্রকল্প ধানমন্ডির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠছে।
প্রথম আলো: নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে খরচ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টের দাম স্থিতিশীল রাখা কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে?
কাজী আশিক উর রহমান: বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। এই বিষয়টি আবাসন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছি আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ইন-হাউস সাপ্লাই চেইন দক্ষতার মাধ্যমে। সঠিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রকৌশল প্রয়োগের ফলে আমরা অপচয় কমিয়ে নির্মাণসামগ্রীর খরচ কিছুটা হলেও কমাতে পারছি। ফলে আমরা গ্রাহকদের জন্য মান অক্ষুণ্ন রেখে ঠিক মূল্যে প্রকল্প হস্তান্তর করতে পারছি।