কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি

সামাজিক মাধ্যমনির্ভর ব্যাংক সেবা বন্ধ হচ্ছে

বাংলাদেশ ব্যাংক
ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার ব্যবহার করে ছোট পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিল দেশের বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তির মুখে এখন এ সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। গত সোমবার বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক এই সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদেরও জানানো হয়েছে।

সিটি ব্যাংক ছাড়া আরও যেসব ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে, ধীরে ধীরে সেসব ব্যাংক এ সেবা বন্ধ করার পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে।

এ ধরনের ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তির কারণ হিসেবে বলেছে, এসব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম থেকে চাইলেই তথ্য পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি গ্রাহকের তথ্য ও অর্থের নিশ্চয়তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ, দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যালয় নেই, তথ্যভান্ডারও বিদেশে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাহকদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে সেবা চালু করে সিটি ব্যাংক। এ জন্য ইনফো বিপ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে ব্যাংকটি। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা তাঁর নিজের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের শেষ পাঁচটি লেনদেনের তথ্য, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ সীমার তথ্য জানতে পারতেন। তবে আর্থিক কোনো লেনদেন করা যেত না। এই সেবা নিতে নিবন্ধন করেন ব্যাংকটির ৪০ হাজার গ্রাহক। আর প্রতি মাসে সেবাটি গ্রহণ করতেন ৮ হাজার গ্রাহক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তির মুখে গত সোমবার সেবাটি বন্ধ করে দেয় সিটি ব্যাংক।

জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যে সেবা দেওয়া হতো, তার তথ্যভান্ডার দেশে সংরক্ষিত নয়। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপত্তি জানিয়েছিল। আমরাও তাই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা ভেন্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করিনি, ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে গ্রাহক সেবা দিতে কলসেন্টার ও ই-মেইল সেবা চালু আছে, যেখানে মাসে ২৭ হাজার গ্রাহক সেবা নিচ্ছেন।’

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবা চালু হয় করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর। করোনার মধ্যেই ব্যাংকগুলো প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় উৎকর্ষ দেখায়। যেসব ব্যাংক এসব সেবা চালু করেছে, তারা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রাহকও পেয়েছে। এতে চাপ কমেছে ব্যাংক শাখার।

২০২০ সালের মার্চে ঢাকা ব্যাংক হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাংকিং সেবা চালু করে। এরপর ইস্টার্ন ব্যাংক ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ভাইবারের মাধ্যম এ সেবা দেওয়া শুরু করে। ২০২০ সালের অক্টোবরে ইসলামী ব্যাংক হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেবা চালু করে। প্রাইম ব্যাংক সেবাটি চালু করে গত বছরের মাঝামাঝি। ২০২১ সালের এপ্রিলে বেসিক ব্যাংকও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিল। এসব ব্যাংকের বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত এ ধরনের সেবার মাধ্যমে শুধু তথ্য সরবরাহ করে। তবে কোনো কোনো ব্যাংক মুঠোফোনে টাকা

রিচার্জ করা ও অন্য হিসাবে টাকা স্থানান্তরের সুবিধা দিচ্ছে। সেবাটি পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।