ইসলামী ব্যাংকবের সামনে সমাবেশ করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম
ইসলামী ব্যাংকবের সামনে সমাবেশ করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দাবি, আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংকটির ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ সদস্যরা।

এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন ফোরাম নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক নুর–উন–নবী।

দাবিগুলো কী

সংবাদ সম্মেলনে সচেতন গ্রাহক ফোরাম ৭ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো:

১. ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ করা চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করতে হবে।

২. ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল করতে হবে।

৩. লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কেউ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে থাকতে পারবে না।

৪. ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করতে হবে।

৫. এস আলমের দখল করা মালিকানা এবং দেশে থাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করতে হবে।

৬. শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। সেদিন রাত নয়টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেয়। খুরশীদ আলম আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্যের নিন্দা

এদিকে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা।

গতকাল সোমবার আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসবে না।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গ্রাহক। গ্রাহক পরিচয়েই এখানে দাবি নিয়ে এসেছি।’