এনআরবি ব্যাংক
এনআরবি ব্যাংক

প্রবাসীদের সঞ্চয় অর্থনীতিতে আনতে চায় এনআরবি

সাধারণ কোনো ব্যাংকের মতো নয়, এই মূল দর্শনকে ধারণ করে ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এনআরবি ব্যাংক পিএলসি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত প্রবাসীদের সঞ্চয় ও মূলধন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করা। গত এক দশকে ব্যাংকটি দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও ক্যাশলেস
সমাজ গঠনে অবদান রাখছে রাখার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ব্যাংকটির তথ্যমতে, বিগত বছরগুলোয় এনআরবি ব্যাংক আর্থিক সূচকে ধারাবাহিক ও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। গত পাঁচ বছরে ব্যাংকের মোট আমানত বেড়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ওপরে রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। পাশাপাশি মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি রয়েছে ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ প্রায় ৬ শতাংশ কমিয়েছে এনআরবি ব্যাংক। ২০২৫ সালে তাদের খেলাপি ঋণ ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি বার্ষিক গড়ে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি বেশ মজবুত; বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ সিআরএআর রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এনআরবি ব্যাংক সফলভাবে তা ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ধরে রেখেছে। সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

সেবা নেটওয়ার্ক ও ঋণ বিতরণ 

গ্রাহকদের আধুনিক সেবা দিতে দেশজুড়ে ব্যাংকটির ৫৬টির বেশি শাখা, ৫৩টির বেশি উপশাখা এবং ৩৫০টির বেশি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহকসংখ্যা ৫ লক্ষাধিক। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এনআরবি ব্যাংক বৈচিত্র্য এনেছে, যার মধ্যে করপোরেট খাতে মোট ঋণের ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, এসএমই ও কৃষি খাতে ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং রিটেইল বা কনজ্যুমার খাতে ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে।  

ডিজিটাল ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রযুক্তি ও অটোমেশনে ব্যাংকটি বিশেষ জোর দিচ্ছে। নিজস্ব ডিজিটাল অ্যাপ ‘এনআরবি ক্লিক’ এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি ব্যবহার করে গ্রাহকরা মাত্র ২ মিনিটে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন। গ্রাহকদের তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষায় ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পিসিআই–ডিএসএস সার্টিফায়েড নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং দ্বিস্তর বিশিষ্ট ট্রানজেকশন প্রটোকল ব্যবহার করছে।

পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে এনআরবি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সোলার প্যানেল, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও ইএফটিপি যুক্ত কারখানায় তারা স্বল্প সুদে অর্থায়ন করছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ২২ কোটি টাকা এবং টেকসই অর্থায়নে ৭৫৭ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া ব্যাংকটিতে প্রায় ১ হাজার ৬২৭ কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতি বছর শতকোটি টাকার বেশি ভ্যাট ও কর জমা দিচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরে ক্যাশলেস ব্যাংকিং ত্বরান্বিত করতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওপেন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাস্টমাইজড সেবা দিতে ব্যাংকটি জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অত্যাধুনিক সেবা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে এনআরবি ব্যাংক ওরাকল ফ্লেক্সকিউব ১৪ দশমিক ৮ ভার্সনে তাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেড করছে।